
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় নাতনির সামনে নানা আজগর আলীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে একদল সন্ত্রাসী। মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত ১০টার দিকে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত আজগর আলী (৬৫) সিংগাইর থানার জয়মন্টপ ইউনিয়নের রায়দক্ষিণ গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় মুদি দোকানি ছিলেন।
স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, আজগরের তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া নাতনি স্কুলে যাওয়া-আসার পথে দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করছিলেন স্থানীয় মৃত কালু পরামানিকের ছেলে, চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী আল আমিন। এ ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে আজগর সিংগাইর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ আল আমিনকে ধরতে গেলে, খবর পেয়ে তিনি ও তার নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের একটি দল রামদা, চাপাতিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আজগরের ওপর হামলা চালায়। তার হাত, পা, মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোপানো হয়।
এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. রাকিব আল শুভ জানান, ভর্তির আগেই রোগী মারা যান। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল।
নিহতের ছেলে লিয়াকত আলী জানান, তার বাবার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হামলাকারীদের অনেকেই চিহ্নিত হলেও, তদন্তের স্বার্থে পুলিশ এখনই তাদের নাম গণমাধ্যমে প্রকাশ করতে নিষেধ করেছে।
সাভার মডেল থানার ওসি জুয়েল মিঞা বলেন, পুলিশ নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে আইনি প্রক্রিয়া শেষে সিংগাইর থানায় হস্তান্তর করেছে।
সিংগাইর থানার ওসি (তদন্ত) তৌফিক আজম বলেন, ইভটিজিংয়ের ঘটনায় আল আমিনকে আসামি করে একটি মামলা এবং হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আল আমিনসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরও পাঁচ-ছয়জনকে আসামি করে পৃথক আরেকটি মামলা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানান তিনি।
Leave a Reply