
সারাদেশে মাদকের ভয়াল থাবায় প্রতিদিন ধ্বংস হচ্ছে অসংখ্য জীবন ও পরিবার। আইনশৃঙ্খলার হচ্ছে অবর্ণনীয় অবনতি। সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে গেছে মাদক। যদিও প্রশাসন বলেছে তারা মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স!
মাত্র তিন হাজার টাকার জন্য শেষ হয়ে গেল একটি সংসার।মাদকের নেশা কেড়ে নিল দুই সন্তানের জননী এক গৃহবধুর প্রাণ, অনিশ্চয়তার অন্ধকার গহ্বরে হারিয়ে গেল দুই নিষ্পাপ শিশুর ভবিষ্যৎ।
নিহত গৃহবধু নাসিমা আক্তার (২৭) নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার বনপাড়া গ্রামের আবদুল মান্নানের মেয়ে। ঘাতক স্বামী তারাকান্দা উপজেলার ঢাকুয়া ইউনিয়নের হরিয়াগাই বাজার সংলগ্ন গীর্দাপাড়া গ্রামের ছায়েদুল ইসলাম।
স্বামী-স্ত্রী দুজনেই শ্রীপুরের একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। দুই সন্তানকে নিয়ে শ্রীপুরে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন তারা।দুই সন্তানকে নিয়ে ছোট্ট একটি ভাড়া বাসায় গড়ে তুলেছিলেন স্বপ্নের সংসার। কিন্তু সেই স্বপ্ন এক রাতেই রক্তাক্ত পরিণতিতে ভেঙে চুরমার হয়ে যায়।
র্যাব জানায়, দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন ছায়েদুল। মাদকের নেশাকে কেন্দ্র করে সংসারে প্রায়ই অশান্তি লেগে থাকত। ঘটনার আগের দিন বেতন পেয়ে বাসায় ফেরেন নাসিমা। এরপর স্বামী তার কাছে তিন হাজার টাকা দাবি করেন। সেই টাকা ছিল মাদক কেনার জন্য। কিন্তু নাসিমা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে রোববার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে স্ত্রীর ওপর হামলা চালান ছায়েদুল।
এই নির্মম ঘটনার সাক্ষী ছিল তাদেরই ছোট দুই সন্তান। মায়ের আর্তচিৎকার আর শিশুদের কান্নায় প্রতিবেশীরা ছুটে এসে নাসিমাকে রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। দ্রুত তাকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলেও চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পরপরই পালিয়ে যান অভিযুক্ত স্বামী।
নিহতের ভাই মোঃ মাসুম শ্রীপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করলে তদন্তে নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে র্যাব-১-এর একটি দল গাজীপুরের বাসন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যাকারী ছায়েদুলকে গ্রেপ্তার করে।
আজ নাসিমা নেই,কিন্তু তার রেখে যাওয়া দুই শিশুর নিষ্পাপ চোখে হয়তো আজীবন ভেসে থাকবে সেই বিভীষিকাময় রাতের স্মৃতি। একটি পরিবারের স্বপ্ন, ভালোবাসা আর ভবিষ্যৎ মুহূর্তেই ধ্বংস করে দিয়েছে মাদকের ভয়াল থাবা।
Leave a Reply