
সিলেটের জৈন্তাপুরে সরকারের বৈধ ইজারাকৃত বড়গাং নদী থেকে বালু উত্তোলনের সময় চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেছে। এতে বাধা দেওয়ায় চাঁদাবাজদের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন এক বারকী শ্রমিক। মঙ্গলবার (১৭ জুন) এই ঘটনা ঘটে।
মধ্যপ্রাচ্যের আগুনে কে ঘি ঢালছে?
এ নিয়ে এলাকায় দিনভর উত্তেজনা বিরাজ করে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বালু উত্তোলনের সময় চাঁদা দাবি করলে শ্রমিকরা বাধা দেয়। এর জেরে রূপচেং মাঝের বিল এলাকায় হামলা চালানো হয়। গুরুতর আহত হন গাতিগ্রামের বাবুল নাথের ছেলে সন্তোয় কুমার (৩৫)। তাকে উদ্ধার করে জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, অভিযুক্ত মজিদ মিয়া শ্রমিকদের হুমকি দিয়ে বলেন, “আপনারা যার সঙ্গেই বোঝাপড়া করেন—ইউএনও, এসিল্যান্ড, পুলিশ বা সেনাবাহিনী—তবুও আমাদের টাকা দিতে হবে। নয়তো ঝামেলায় পড়বেন।”
স্থানীয়ভাবে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই একটি প্রভাবশালী চক্র বড়গাং নদীতে ইজারাদারের বৈধভাবে বালু উত্তোলনে বাধা সৃষ্টি করে আসছিল। অভিযোগ রয়েছে, রূপচেং মাঝের বিল এলাকার মৃত শমসুর উদ্দিনের ছেলে জাটকা জামাল (৩২), করিম আলীর ছেলে মজিদ (৫০), নিজপাট ইউপির সাবেক মেম্বার আ. নূর (৫০), মোজন আলীর ছেলে আলাই মিয়া (৪৫), মজর আলীর ছেলে কলা জমির (৪৫), তসির আলীর ছেলে আবুল (৩৫), আম্বুলার ছেলে আব্দুল জলিল (৪২), বাবুল মিয়া (৪৫), ইসলাম মিয়া (৩৮) প্রমুখ শ্রমিকদের নৌকা আটকিয়ে ৩০০ থেকে ৮০০ টাকা করে চাঁদা দাবি করেন।
চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে খোকন মিয়া নামে এক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন শ্রমিকরা।
বালু উত্তোলনের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান সনি সোহা এন্টারপ্রাইজ-এর পক্ষে আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, “সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ইজারা নিয়ে আমরা বালু উত্তোলন করছি। কিন্তু কয়েক দিন ধরে একটি চক্র শ্রমিকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা দাবি করছে। এমনকি তারা ইউএনও, এসিল্যান্ড, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর নাম জড়িয়ে হুমকি দিচ্ছে। আমরা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
জৈন্তাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফারজানা আক্তার লাবনী বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। পরে আবার শ্রমিকদের উপর হামলার খবর পাই। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ভিনদেশী নারী লিপ্সা ও মধ্যপ্রাচ্যের আত্মবিধ্বংসী রাজনীতি
জৈন্তাপুর মডেল থানার ওসি আবুল বাশার মোহাম্মদ বদিউজ্জামান বলেন, “ঘটনার বিষয়ে এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মাঝে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
Leave a Reply