
২৫ বছর ধরে কুলি হিসেবে কাজ করা একজন মানুষ—আবদুল করিম। নিজের সংসার, নিজের স্বপ্ন—সবকিছুর মাঝেও তিনি চোখে দেখেছেন এলাকার মানুষের কষ্ট। প্রতিদিন ঝুঁকিপূর্ণ রেলসেতু পার হয়ে স্কুলে যাওয়া শিশু, জরুরি সময়ে রোগী নিয়ে ছুটতে না পারা পরিবার, জীবিকার তাগিদে জীবন বাজি রাখা শ্রমিক—এই বাস্তবতা তাঁকে থামতে দেয়নি।
শেষ পর্যন্ত নিজের ২৫ বছরের সঞ্চয়, একটি খাসি বিক্রির টাকা, এমনকি নিজের শখের মোটরসাইকেলটাও বিক্রি করে তিনি তৈরি করলেন প্রায় ১২০ ফুট দীর্ঘ একটি কাঠের সেতু। খরচ প্রায় তিন লাখ টাকা। কোনো বড় ঠিকাদার না, কোনো সরকারি প্রকল্প না—একজন সাধারণ মানুষের অসাধারণ সিদ্ধান্ত।
আর সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্ত—এই সেতুর উদ্বোধন করলেন তাঁর মা। যেন পুরো গল্পটা এক বৃত্তে এসে পূর্ণতা পেল। আবদুল করিম উলিপুর পৌরসভার জোনাইডাঙ্গা এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি নিজ উদ্যোগে বুড়ি তিস্তা নদীর ওপর প্রায় ১২০ ফুট দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণ করেন।
এখন সেই সেতু দিয়ে প্রতিদিন হেঁটে যাচ্ছে হাজারো মানুষ। স্কুলে যাচ্ছে শিশু, সহজে হাসপাতালে পৌঁছাচ্ছে রোগী, নিরাপদে কাজে যাচ্ছে শ্রমজীবী মানুষ। এক মানুষের সিদ্ধান্ত বদলে দিয়েছে পুরো এলাকার জীবনযাত্রা।
আমরা প্রায়ই বলি—“দেশের জন্য কিছু করতে চাই”, “সমাজ বদলানো দরকার”। কিন্তু বাস্তবে কয়জন নিজের আরামের জায়গা ছেড়ে এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারি?
আবদুল করিম দেখিয়ে দিলেন—পরিবর্তন বড় কিছু দিয়ে না, দরকার একটা সৎ ইচ্ছা আর দায়িত্ববোধ।
এই মানুষটা প্রমাণ করে দিলেন—নেতা হতে পদ লাগে না, লাগে সাহস।
সমাজে এমন মানুষ যত বাড়বে, তত কমবে আমাদের অভিযোগ, তত বাড়বে আশার আলো।
Leave a Reply