
যান্ত্রিক নগরের ইট-পাথরের দেয়াল যখন দমবন্ধ অনুভূতির সৃষ্টি করে, তখন মন খোঁজে একটুখানি স্নিগ্ধতা। ঢাকার খুব কাছেই সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নে প্রকৃতির এক অনন্য উপহার ‘সাদুল্লাপুর’। চারদিকে তাকালে মনে হবে কেউ যেন সবুজ ক্যানভাসে লাল রঙের আলপনা এঁকে দিয়েছে। গ্রামটির মেঠোপথ দিয়ে হাঁটলে নাকে আসবে গোলাপের তীব্র মিষ্টি ঘ্রাণ, যা নিমিষেই আপনার শরীরের সমস্ত ক্লান্তি ধুয়ে মুছে দেবে। আজ আপনাদের জানাবো সেই ‘গোলাপ গ্রামের’ গল্প।
দিগন্তজোড়া লাল গালিচা:
সাদুল্লাপুর বা শ্যামপুর গ্রামের বৈশিষ্ট্য হলো এখানকার প্রতিটি বাড়ির আঙিনায়, রাস্তার ধারে এবং দিগন্ত বিস্তৃত মাঠে কেবল গোলাপের চাষ। ভোরের শিশির যখন লাল পাপড়ির ওপর মুক্তোর মতো চিকচিক করে, তখন সেই দৃশ্য মায়াবী এক আবেশ তৈরি করে। শুধু পর্যটন নয়, এই গ্রামটি দেশের অন্যতম বড় ফুলের বাজারও বটে। প্রতিদিন বিকেলে স্থানীয় হাটে যখন হাজার হাজার তাজা গোলাপ বিক্রির জন্য জড়ো করা হয়, তখন পুরো এলাকা এক জীবন্ত উৎসবে রূপ নেয়।
যাতায়াত ব্যবস্থা:
নাগরিক কোলাহল এড়িয়ে গোলাপ রাজ্যে
সাভারের এই নয়নাভিরাম গ্রামে পৌঁছানো এখন আগের চেয়ে অনেক সহজ। পর্যটকদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে নিচে সড়ক ও নৌপথের সংক্ষিপ্ত গাইড দেওয়া হলো:
সড়ক পথে যাতায়াত:
রুট ১: গাবতলী থেকে যেকোনো বাসে বিরুলিয়া ব্রিজ। সেখান থেকে অটো বা লেগুনায় আক্রাইন বাজার। আক্রাইন বাজার থেকে পুনরায় অটো নিয়ে সরাসরি চলে যেতে পারেন গোলাপ গ্রাম।
রুট ২: গাবতলী থেকে সাভারগামী বাসে চেপে ‘সাভার পুরাতন বাস স্ট্যান্ড’ নামতে হবে। এখান থেকে সরাসরি অটোযোগে পৌঁছানো যাবে স্বপ্নের সেই গোলাপ গ্রামে।
নৌপথে রোমাঞ্চ:
মিরপুর বেড়িবাঁধের ‘দিয়াবাড়ি’ ঘাট থেকে ট্রলার বা ইঞ্জিনচালিত নৌকায় তুরাগ নদ পার হয়ে সাদুল্লাপুর ঘাটে নামলেই আপনি পৌঁছে যাবেন গোলাপের অরণ্যে।
কিছু জরুরি পরামর্শ:
১. সঠিক সময়: গোলাপের প্রকৃত সতেজতা দেখতে হলে খুব সকালে অথবা পড়ন্ত বিকেলে পৌঁছানো সবচেয়ে ভালো।
২. স্থানীয়দের সম্মান: মনে রাখবেন, এই বাগানগুলো স্থানীয় কৃষকদের তিল তিল করে গড়া স্বপ্ন। তাই ছবি তোলার সময় কোনোভাবেই ফুল বা গাছের ক্ষতি করবেন না।
৩. পরিবেশ রক্ষা: চিপসের প্যাকেট বা প্লাস্টিক বোতল যত্রতত্র ফেলে আমাদের প্রিয় সাভারের এই সুন্দর গ্রামটিকে অপরিচ্ছন্ন করবেন না।
”শহুরে ব্যস্ততাকে ছুটি দিয়ে একদিনের জন্য হারিয়ে যেতে পারেন সাভারের এই লাল গালিচায়। প্রিয়জনের হাত ধরে গোলাপের সুবাসে ঘেরা এই মেঠোপথ আপনার স্মৃতির পাতায় অক্ষয় হয়ে থাকবে।”



Leave a Reply