
চেন্নাই, ০৮ মে ২০২৬: তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে দূরে থাকা সত্ত্বেও সরকার গঠনের দাবি জানানোয় অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ থালাপথি বিজয়ের প্রতি কঠিন প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন তামিলনাড়ুর গভর্নর রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আর্লেকর। গতকাল রাজভবনে আয়োজিত এক বৈঠকে গভর্নর বিজয়কে উদ্দেশ্য করে বলেন, “১১৩ জন বিধায়ক নিয়ে কীভাবে আপনি একটি স্থিতিশীল সরকার পরিচালনা করবেন?”
সংখ্যার সমীকরণ ও সাংবিধানিক জটিলতা
২০২৬ সালের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়ের দল ‘তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম’ (TVK) ১০৮টি আসনে জয়লাভ করে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। পরবর্তীতে কংগ্রেসের ৫ জন বিধায়ক সমর্থন জানানোয় এই সংখ্যা দাঁড়ায় ১১৩-তে। তবে ২৩৪ আসনের বিধানসভায় সরকার গঠনের ‘ম্যাজিক ফিগার’ হলো ১১৮। গভর্নর স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, প্রয়োজনীয় ১১৮ জন বিধায়কের স্বাক্ষরিত সমর্থনপত্র ছাড়া কাউকে শপথ গ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো সম্ভব নয়।
গভর্নরের অবস্থান ও কঠোর বার্তা
সূত্রের খবর অনুযায়ী, রাজভবনে বিজয় যখন তার দলের পক্ষ থেকে সরকার গঠনের দাবি পেশ করেন, তখন গভর্নর রাজেন্দ্র আর্লেকর সংবিধানের বিধানগুলো স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি জানতে চান, পর্যাপ্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকা সত্ত্বেও যদি সরকার গঠন করা হয়, তবে বিধানসভায় অনাস্থা প্রস্তাব বা গুরুত্বপূর্ণ বিল পাসের ক্ষেত্রে দল কীভাবে নিজেদের প্রমাণ করবে। গভর্নর বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি ‘ঝুলন্ত বিধানসভা’ (Hung Assembly) হিসেবে উল্লেখ করে সংখ্যাগরিষ্ঠতার অকাট্য প্রমাণ দাবি করেছেন।
রাজনৈতিক মহলে তোলপাড়
এদিকে বিজয়ের দল TVK দাবি করছে, তারা সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যা জোগাড় করতে সক্ষম হবে। দলের সমর্থকরা মনে করছেন, গভর্নর জানত বিচার করে বিজয়কে সময় দিচ্ছেন না। অন্যদিকে, এআইএডিএমকে (AIADMK) এবং ডিএমকে (DMK) এই পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। কোনো কোনো মহলে গুঞ্জন চলছে যে, বিজয় হয়তো বাম দলগুলো অথবা ছোট দলগুলোর সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালাচ্ছেন।
ভবিষ্যৎ কোন দিকে?
আগামী ১০ মে বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। তার আগেই যদি বিজয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে না পারেন, তবে রাজ্যে রাষ্ট্রপতির শাসন জারি হতে পারে অথবা গভর্নর অন্য কোনো জোটকে সরকার গঠনের আহ্বান জানাতে পারেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এক চরম নাটকীয়তা ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।
তথ্যসূত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া, এনডিটিভি এবং স্থানীয় সংবাদ সংস্থা।
Leave a Reply