
মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়ন ৫নং আরুয়া ইউনিয়ন পরিষদ। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন থেকেই সরগরম হয়ে উঠেছে ইউনিয়নের রাজনৈতিক অঙ্গন। সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা ব্যানার, ফেস্টুন, শুভেচ্ছা কার্ড ও গণসংযোগের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানান দিতে শুরু করেছেন। নতুন মুখের আগমনে এবারের নির্বাচন নতুন-পুরাতনের সমীকরণে জমে উঠবে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।
জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলনের আগে এ ইউনিয়নের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা মোনায়েম মুন্তাকিম রহমান খান অনিক। সরকার পরিবর্তনের পর তিনি কিছুদিন আত্মগোপনে থাকার পর মামলায় গ্রেপ্তার হন। একই সঙ্গে সাবেক চেয়ারম্যান আক্তারুজ্জামান খান মাসুমও আইনি জটিলতায় পড়েন। পরে তারা জামিনে মুক্ত হলেও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ায় বর্তমানে রাজনৈতিক মাঠে তাদের তৎপরতা অনেকটাই কমে গেছে।
বর্তমানে ইউনিয়নের রাজনীতিতে বিএনপির প্রভাব বেশি দেখা যাচ্ছে। ফলে দলটির একাধিক নেতা চেয়ারম্যান পদে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। একইসঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও সম্ভাব্য প্রার্থী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।
নতুন মুখ হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ সুরুজ মিয়া। দলের দুঃসময়ে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করায় তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মীর সমর্থন রয়েছে তার প্রতি। ইতোমধ্যেই তিনি বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ শুরু করেছেন।
এদিকে দীর্ঘদিনের বিএনপি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত পরীক্ষিত নেতা রেজাউল করিম রঞ্জুও চেয়ারম্যান পদে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। জুলাই আন্দোলনের পর এলাকায় ব্যানার-ফেস্টুন টানিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি রাজনৈতিকভাবে সক্রিয়তার বার্তা দেন। ব্যক্তিগত ভোটব্যাংক সীমিত হলেও পারিবারিক ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে বলে মনে করছেন তার সমর্থকরা।
তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে আলোচনায় এসেছেন শিবালয় উপজেলা আরাফাত রহমান কোকো ক্রীড়া সংসদের সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন। রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং জুলাই আন্দোলনের সময় কারাভোগের অভিজ্ঞতা তাকে তরুণদের মাঝে পরিচিত মুখে পরিণত করেছে।
জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নাম শোনা যাচ্ছে মোহাম্মদ হানিফের। যদিও সংগঠনে তার আনুষ্ঠানিক পদ-পদবি সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি, তবুও বিভিন্ন সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগে তাকে সক্রিয় দেখা যাচ্ছে।
এছাড়াও আরুয়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মোঃ আক্কাস মিয়াও চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন। স্থানীয় রাজনীতিতে তারও রয়েছে নিজস্ব অনুসারী গোষ্ঠী।
পুরাতন ও পরিচিত মুখদের মধ্যে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মোঃ মাহবুব হোসেনের নামও বিভিন্ন মহলে আলোচনায় রয়েছে। যদিও তিনি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থিতা ঘোষণা দেননি, তবে তার অনুসারীরা বিভিন্ন দিবস ও সামাজিক অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বার্তার মাধ্যমে তাকে আলোচনায় রাখছেন। শেষ পর্যন্ত তিনি নির্বাচনে অংশ নেবেন কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক দুর্বলতার সুযোগে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীদের মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। নতুন মুখের অংশগ্রহণ এবং তরুণদের সক্রিয়তায় এবারের আরুয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হতে পারে বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও আলোচিত।
Leave a Reply