
সাভারে দীর্ঘদিনেও কাটেনি গ্যাস সংকট। আবাসিক এলাকায় প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে রান্নাবান্না, অন্যদিকে সিএনজি স্টেশনগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও মিলছে না পর্যাপ্ত গ্যাস। গ্যাসের স্বল্পচাপের প্রভাব পড়েছে শিল্পকারখানাতেও।
প্রায় তিন মাস ধরে চলমান এ সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, পরিবহন শ্রমিক ও শিল্প সংশ্লিষ্টরা। সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের স্বল্পচাপ নিয়ে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
◾ বাসাবাড়িতে নেই প্রয়োজনীয় গ্যাস, ফিরছে বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার
সাভার-আশুলিয়ার বিভিন্ন আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, দিন কিংবা রাত—অনেক সময়ই প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে রান্নাবান্না চালিয়ে নিতে অনেক পরিবার এলপিজি সিলিন্ডার, বৈদ্যুতিক চুলাসহ বিভিন্ন বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
কয়েকজন বাসিন্দা জানান, দীর্ঘ সময় গ্যাস না থাকায় রান্নাবান্না চালিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। নিম্ন ও মধ্যআয়ের পরিবারের জন্য বিকল্প জ্বালানির অতিরিক্ত খরচ নতুন করে আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে।
◾ সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ সারি, বাড়ছে চালকদের দুর্ভোগ
আমিনবাজার, হেমায়েতপুর ও সাভার পৌরসভা এলাকার বিভিন্ন সিএনজি স্টেশনে গ্যাসের চাপ কম থাকায় দীর্ঘ যানবাহনের সারি দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন চালকরা।
তাদের অভিযোগ, কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক সময় পর্যাপ্ত গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। এতে সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন সিএনজিচালিত যানবাহনের চালকরা।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বর্তমানে অনেক এলাকায় গ্যাসের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কম থাকায় রিফুয়েলিং কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
◾ শিল্পকারখানাতেও প্রভাব, বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়
গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে সাভারের শিল্পাঞ্চলেও। বিশেষ করে গ্যাসনির্ভর বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
হেমায়েতপুরসহ বিভিন্ন শিল্প এলাকার সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে বিকল্প ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যয়ের পাশাপাশি উৎপাদন খরচ বাড়ছে বলে দাবি তাদের।
◾ সংকটের কারণ কী?
দেশের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় বিভিন্ন সময়ে এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়া এবং সরবরাহ ব্যবস্থার চাপের কারণে তিতাসের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের স্বল্পচাপ দেখা দেওয়ার তথ্য এর আগে প্রকাশিত হয়েছে।
এর প্রভাবে আবাসিক, শিল্প, বাণিজ্যিক ও সিএনজি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কার কথাও উঠে এসেছে বিভিন্ন প্রতিবেদনে।
তবে সাভারে বর্তমানে চলমান গ্যাস সংকটের নির্দিষ্ট কারণ এবং কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সাভারবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুত গ্যাসের স্বাভাবিক চাপ ফিরিয়ে এনে আবাসিক জীবন, পরিবহন ব্যবস্থা ও শিল্পকারখানার চলমান দুর্ভোগের অবসান ঘটানো হবে।
🗣️ পাঠকদের কাছে প্রশ্ন:
আপনার এলাকায় বর্তমানে গ্যাসের পরিস্থিতি কেমন? দিনে বা রাতে কখন গ্যাস পাচ্ছেন? আপনার এলাকার নাম ও অভিজ্ঞতা কমেন্টে জানান। আপনাদের তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি আরও অনুসন্ধান করে তুলে ধরার চেষ্টা করবে 


Leave a Reply