
সকালটা অন্য দিনের মতোই শুরু হয়েছিল।
বগুড়ার শিবগঞ্জের গোপীনাথপুর এলাকায় মোকামতলা-জয়পুরহাট সড়ক দিয়ে নিজের নির্বাচনী এলাকার দিকে যাচ্ছিল জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মোঃ আব্দুল বারীর গাড়ি। সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী।
হঠাৎ সড়কের সামনে চলে আসেন এক বৃদ্ধা নারী। তিনি ফিরোজা বেগম। বয়স আনুমানিক ৫৫ থেকে ৬০ বছর। স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, তিনি শ্রবণপ্রতিবন্ধী ছিলেন।
এক মুহূর্তের সিদ্ধান্ত। চালক তাঁকে বাঁচাতে গাড়িটি রাস্তার পাশে ঘুরিয়ে দেন। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি গিয়ে পড়ে ধানক্ষেতে। দুর্ঘটনায় প্রতিমন্ত্রী, তাঁর স্ত্রীসহ গাড়িতে থাকা কয়েকজন আহত হন। পরে তাঁদের উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
কিন্তু যে মানুষটিকে বাঁচাতে গিয়ে গাড়িটি রাস্তা থেকে ছিটকে ধানক্ষেতে পড়ল, সেই ফিরোজার ভাগ্য শেষ পর্যন্ত অন্যরকম হলো।
দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ফিরোজা বেগমকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে তাঁকে বগুড়ার টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার দুপুরের আগেই তাঁর মৃত্যু হয়।
ফিরোজা বেগম ছিলেন গোপীনাথপুর গ্রামের মৃত নিজাম উদ্দিনের স্ত্রী। সকালে একটি দুর্ঘটনা।
একটি গাড়ি ধানক্ষেতে। একজন মন্ত্রী আহত। আর কয়েক ঘণ্টা পরই একটি পরিবারের জন্য নেমে এলো চিরস্থায়ী শোক।
সবচেয়ে বেদনাদায়ক বিষয় হলো, ঘটনাটি শুরু হয়েছিল একজন পথচারীকে বাঁচানোর চেষ্টা থেকেই। কিন্তু সেই পথচারীই শেষ পর্যন্ত প্রাণ হারালেন।
এখন সামনে আসবে তদন্তের প্রশ্ন। গাড়ির গতি কত ছিল, চালকের প্রতিক্রিয়া যথাযথ ছিল কি না, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ কী এবং নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থাপনায় কোথায় ঘাটতি ছিল, এসব বিষয়ই গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
কারণ সড়কে একজন সাধারণ মানুষের জীবন আর একজন রাষ্ট্রীয় দায়িত্বশীল ব্যক্তির জীবন, দুটোরই মূল্য সমান।
ফিরোজা বেগমের মৃত্যু সেই কথাটিই আবার মনে করিয়ে দিল।
Leave a Reply