
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে চরফ্যাশন উপজেলার ১৩নং এওয়াজপুর ইউনিয়ন পরিষদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বইছে উৎসবমুখর নির্বাচনী হাওয়া। এরই ধারাবাহিকতায় আজ ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় নেমেছেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও বিএনপি নেতা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হেলাল উদ্দিন। এরই মধ্যে তৃণমূলের নেতাকর্মী, সাধারণ মানুষের ভালোবাসা ও আস্থায় নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন এই চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী। আজ শুক্রবার এওয়াজপুর ইউনিয়নে তাঁর নির্বাচনী প্রচারণার জমজমাট সূচনা করেছেন তিনি।
সকালে ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণকে সাথে নিয়ে দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিক গণসংযোগ শুরু করেন। এরপর দিনভর ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড,পাড়া মহল্লা বাজার ও গ্রামগঞ্জের মোড়ে মোড়ে ভোটারদের সাথে কুশল বিনিময় করেন এবং লিফলেট বিতরণ করেন ।নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার আগেই ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ড, গ্রাম ও হাট-বাজারে হেলাল উদ্দিনের কর্মী-সমর্থকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গতকাল ইউনিয়নের প্রধান প্রধান সড়ক ও বাজারগুলোতে তাঁর সমর্থনে বিশাল গণসংযোগ ও মোটরসাইকেল শোডাউন অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মীসহ সাধারণ ভোটাররা। প্রচারণায় স্থানীয় যুবসমাজ, প্রবীণ মুরব্বি ও সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
তৃণমূলের সমর্থন ও গণসংযোগ কালে হেলাল উদ্দিন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যান এবং প্রবীণদের দোয়া ও আশির্বাদ নেন। স্থানীয় ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, হেলাল উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে এলাকার নানা সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। যেকোনো দুর্যোগে তিনি সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। ফলে দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের মধ্যে তাঁর একটি ক্লিন ইমেজ ও ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে।
এওয়াজপুর ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন সাধারণ ভোটার জানান, আমরা এমন একজন নেতাকে চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চাই, যিনি সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্ট বুঝবেন এবং এলাকার উন্নয়নে কাজ করবেন। হেলাল উদ্দিন আমাদের সুখ-দুঃখে সবসময় পাশে থাকেন। তাই আসন্ন নির্বাচনে আমরা তাঁকেই সমর্থন দিচ্ছি।
উন্নয়নের অঙ্গীকার প্রচারণার সূচনা লগ্নে এক সংক্ষিপ্ত পথসভায় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হেলাল উদ্দিন বলেন, আমি এওয়াজপুর ইউনিয়নের মাটির সন্তান। আমি ক্ষমতার লোভে কিংবা পদের মোহে নির্বাচনে আসিনি। এওয়াজপুর ইউনিয়নের অবহেলিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং এই ইউনিয়নকে একটি আধুনিক ও স্মার্ট ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলাই আমার মূল লক্ষ্য। মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন এবং এলাকার রাস্তাঘাট, শিক্ষা ও চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নয়নে আমি আমৃত্যু কাজ করে যেতে চাই। সরকারি সকল সুযোগ-সুবিধা, যেমনবয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা এবং টিসিবি কার্ড বিতরণে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে তা সরাসরি সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া। এওয়াজপুরের প্রান্তিক কৃষকদের অধিকার রক্ষা ও স্থানীয় বাজারগুলোর নিরাপত্তা ও আধুনিকায়ন করা। ইউনিয়নের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন , নতুন রাস্তাঘাট নির্মাণ এবং ভাঙাচোরা রাস্তা সংস্কারের মাধ্যমে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি আরও বলেন, তৃণমূলের জনগণ ও আমার নেতার আশীর্বাদ আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। আশা করি, জনগণ তাদের মূল্যবান ভোট দিয়ে আমাকে এওয়াজপুর ইউনিয়নের সেবা করার সুযোগ দেবেন। হেলাল উদ্দিনের আজ আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে নামার মধ্য দিয়ে প্রায় ৫১৪০ বর্গ কিলোমিটারের একটি বিস্তীর্ণ এই ইউনিয়নের নির্বাচনী সমীকরণকে অনেকটাই বদলে দিয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এখন দেখার বিষয় এই গণজোয়ার কতদূর বজায় থাকে। 



Leave a Reply