
ক্যান্সার, কিডনি রোগ, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইসিস, জটিল হৃদরোগ, লিউকেমিয়া ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত সংকটাপন্ন রোগীদের জন্য এককালীন জরুরি চিকিৎসা সহায়তার পরিমাণ বাড়িয়েছে সরকার। এখন যোগ্য রোগীরা সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পর্যন্ত এই সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এই কর্মসূচির আওতায় সুবিধাভোগীর সংখ্যা ৬০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৬৫ হাজার করা হয়েছে। একই সঙ্গে রোগীপ্রতি এককালীন জরুরি চিকিৎসা সহায়তা ৫০ হাজার টাকা থেকে দ্বিগুণ করে ১ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
কর্মসূচির আওতায় ক্যান্সার, কিডনি রোগ, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইসিস, জটিল হৃদরোগ, লিউকেমিয়া ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত সংকটাপন্ন রোগীরা সহায়তার জন্য বিবেচিত হবেন। তবে শুধু রোগের নাম থাকলেই সহায়তা নিশ্চিত হবে না; নির্ধারিত শর্ত পূরণ এবং যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত হতে হবে।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রকাশিত কর্মসূচির তথ্যে বলা হয়েছে, আবেদনকারীর সংশ্লিষ্ট রোগের বিষয়ে নিবন্ধিত চিকিৎসকের প্রত্যয়ন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রতিবেদন থাকতে হবে। পাশাপাশি জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধনের কাগজপত্র এবং নির্ধারিত বাছাই প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত হওয়া প্রয়োজন।
সরকারি কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের পর যোগ্য রোগীদের তালিকা অনুমোদন করা হয়। সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রকাশিত নির্দেশনায় উপজেলা/শহর সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে আবেদন গ্রহণের ব্যবস্থা এবং অনলাইন আবেদনের কথাও উল্লেখ রয়েছে। বছরের বিভিন্ন সময়ে আবেদন করার সুযোগ থাকার কথাও সরকারি কর্মসূচির তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৬ সালের সংশোধিত নীতিমালায় কর্মসূচির আওতায় থাকা রোগের তালিকায় লিউকেমিয়াও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে বর্তমানে ক্যান্সার, কিডনি রোগ, লিভার সিরোসিস, প্যারালাইসিস, হৃদরোগ, লিউকেমিয়া ও থ্যালাসেমিয়া—এই সাত ধরনের জটিল রোগের সংকটাপন্ন রোগীরা কর্মসূচির আওতায় আসছেন।
তবে সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র, আর্থিক ও সামাজিক অবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই গুরুত্বপূর্ণ। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা শহর সমাজসেবা কার্যালয় থেকে সর্বশেষ আবেদনপদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
Leave a Reply