
দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) পর্যাপ্ত মজুত থাকার কথা সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো জানালেও খুচরা বাজারে সংকট ও বাড়তি দামের অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন এলাকার বাজারচিত্র নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার নির্ধারিত দামের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বেশি দামে বিক্রির তথ্য উঠে এসেছে।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। তবে দৈনিক ফুলকির প্রতিবেদনে বাজারে একই সিলিন্ডার ২ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রির তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে জাগো নিউজের প্রতিবেদনে কোথাও কোথাও দাম ২ হাজার ৯০০ টাকা পর্যন্ত ওঠার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ অঞ্চল ও বাজারভেদে দামের পার্থক্য রয়েছে।
এলপিজির সংকটের কারণ নিয়ে আমদানিকারক, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে। আমদানিকারক ও সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো দেশে পর্যাপ্ত মজুত ও সরবরাহ থাকার কথা বলছে। বিপরীতে কিছু ডিলার ও খুচরা বিক্রেতার দাবি, সরবরাহ কম থাকায় বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে। এসব দাবির সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি চলছে।
এদিকে এলপিজির কৃত্রিম সংকট এবং নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির বিষয়টি খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসকদের তথ্য-প্রমাণসহ প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যেসব এলাকায় সরবরাহ কম পাওয়া যাবে, সেখানে সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং অতিরিক্ত দাম নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে দেশে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৬০ টন এলপিজি আমদানি হয়েছে এবং ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আমদানির পরিমাণ ছিল ১ লাখ ১৮ হাজার ৭৪২ টন। একই সময়ে দেশে এলপিজির গ্রাহক প্রায় এক কোটি এবং মাসিক চাহিদা প্রায় দেড় লাখ টন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এলপিজির দাম ও সরবরাহের এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ছে সাধারণ ভোক্তা, হোটেল-রেস্তোরাঁসহ ছোট ব্যবসায়ীদের ওপর। বাড়তি জ্বালানি ব্যয় সামাল দিতে কোথাও কোথাও খাবারের দামও বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
তবে বাজারে প্রকৃত সংকট কতটা এবং বাড়তি দামের পেছনে সরবরাহ ঘাটতি, বাজার ব্যবস্থাপনা নাকি অন্য কোনো কারণ কাজ করছে—তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই স্পষ্ট হবে।
Leave a Reply