
একটা সময় কৃষক ২০০৭ সালে বৈশাখ মাসে নতুন ২৮ ধান বিক্রি করতো ৭২০ টাকা মন,তখন ইউরিয়া সারের দাম ছিলো ৫০০ টাকা বস্তা. জমি চাষের মূল্য ছিলো ৮০০-১০০০ টাকা একর, আর একজন মানুষের পারিশ্রমিক ছিলো ৩০০-৪০০ টাকা. তখন কৃষি কাজ টা মুটামুটি লাভজনক ছিলো সবার জন্য।
তারপর আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে সারের দাম বেড়ে ১০০০-১১০০ টাকা হয়ে যায়, সেইসাথে জমি চাষের মূল্য বেড়ে হয়ে যায় ১৫০০-২০০০ টাকা, মানুষের মজুরি ৫০০-৬০০ টাকা, আর ধানের দাম ৭০০-৮০০ টাকা। এই ধাক্কায় হাওর এলাকার সুন্দর সুখী সচ্ছল কৃষক পরিবার গুলো চোখের সামনে নিঃশেষ হয়ে যেতে শুরু হলো।
আমাদের জয়সিদ্ধির উত্তরের হাওরের শতশত একর জমি এইজন্য পতিত পরে গেলো।
একসময় হাওরের গৃহস্থ পরিবারগুলোর চলাফেরা ছিলো অনেকটা জমিদারদের মতো, ৬ মাস কাজ করতো সারাবছর নিশ্চিন্তে চলতো কিন্তু আজ সেইসব কৃষকেরা নিঃস্ব রিক্ত হয়ে দিশেহারা হয়ে গেলো।
বিগত দুই বছরে ধানের দাম কিছুটা বাড়াতে কৃষকদের মনে সামান্য আশার সঞ্চার হয়েছিলো যে, আস্তে আস্তে হয়তো কৃষকদের সু-দিন ফিরছে,কিন্তু বিধিবাম এইবার দেখা গেলো অবস্থা খুবই ভয়াবহ সারের দাম ১২০০-১৫০০,হালচাষ ২০০০-৩০০০,মজুরি ৭০০-৮০০ আর বৈশাখ মাসে নতুন ধানের দাম বিগত দিনের রেকর্ড ছাড়িয়ে সর্বনিম্ন ৬৫০ থেকে ৭৫০ টাকা! কৃষকদের অবস্থা এইবার আরো করুণ! আরো হতাশাজনক হলো।
হায়রে বাংলাদেশ! এই দেশে গতো বিশ বছরে সব জিনিসের দাম ১০০০ টাকার জিনিস টা ৪০০০ টাকা হইছে শুধু ধানের দামটাই কমতেছে! আবার চালের দাম ঠিকই ৩০০০-৩৫০০টাকা বস্তা প্রতি
(৫০কেজি)। কি আজব দেশ! যেই কৃষির উপর নির্ভরশীল হয়ে পৃথিবীর অনেক দেশ উন্নতির শেখরে আরোহন করেছে,অথচ কৃষি নির্ভর এই দেশে কৃষক হয়ে জন্ম নেওয়া টাই যেনো আজন্ম পাপ!
অথচ কৃষকদের উন্নতির চেষ্টা করার দরকার ছিলো সর্বাগ্রে, কারন কৃষকদের উন্নতি ছাড়া দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার কোনো সুযোগ নাই কিন্তু প্রকৃত সমস্যার সমাধানের চিন্তা না করে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষককার্ডের লোভ দেখানো টা অবহেলিত হতভাগ্য কৃষকদের প্রতি উপহাস ছাড়া আর কিছুই মনে হয়না আমার কাছে! এই কার্ডের রাজনীতি আমার কাছে বোকা জনগনের জন্য শুধুমাত্র প্রতারণার ফাঁদ মনে হয়। জানিনা কার কাছে কি মনে হয়! কৃষক না বাঁচলে দেশ বাঁচবে এমনটা কল্পনা করাও পাপ।
Leave a Reply