
গত দুই দিন আগে গৌরীপুর লজ নিয়ে আমি আমার টাইম লাইন থেকে একটা পোস্ট দিয়েছিলাম। এই পোস্টের পক্ষে বিপক্ষে অনেক আলোচনাই হচ্ছে এবং হতেই পারে।
নাগরিক হিসেবে কথা বলার অধিকার সবারই আছে ; আমারও আছে। মোদ্দা কথা হচ্ছে এই ভবনটি ময়মনসিংহের পুরাকীর্তি বা ঐতিহাসিক প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ।
এটাকে রক্ষা করতে হবে এবং দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে।
শোনা যাচ্ছে সোনালি ব্যাংক এটি সরকারের কাছ থেকে বরাদ্দ নিয়েছে। সরকারও সোনালী ব্যাংককে এটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বরাদ্দ দিয়েছে দাপ্তরিক কাজের সুবিধার জন্য।
সরকার নিশ্চয় এটি কারো রেসিডেন্স হিসেবে ব্যবহারের শর্ত দেয়নি। কয়েকজন কর্মকর্তা ধারাবাহিক ভাবে এটা আবাসিক ভবন হিসেবে ব্যবহার করছেন। প্রত্যেক সরকারি কর্মকর্তার বাড়ি ভাড়া বাবদ একটি ভাতা থাকে।
এখন কথা হচ্ছে এই ভবন ব্যবহার করায় ব্যাংক কি তাদের বেতন থেকে বাড়ি ভাড়া কর্তন করছে?
মূল অভিযোগ আমার এটাও না ; এখানে খুবই উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও স্পর্শকাতর তথ্য হচ্ছে এই ভবনটির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটি পুরোপুরি কাঠের তৈরি। এই কাঠ বাড়ি নির্মাণের কারিগর আনা হয়েছিল চীন থেকে। জমিদার ব্রজেন্দ্র কিশোর রায় এই বাড়ি নির্মাণ করেন ১৮২৮ সালে।
এর নির্মাণ শৈলীর কারণেই এটি এ অঞ্চলের পুরাকীর্তির গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।
একটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে ]যার সত্য মিথ্যা জানিনা, আমার জানারও সুযোগ নেই, যেহেতু কারও প্রবেশের সুযোগ নেই। ] এই ভবনে যারা থাকেন তারা এখানে সিলিন্ডার চুলা ব্যবহার করে রানা করে খান। রান্না সিলিন্ডার চুলাতেই হোক আর কেরোসিন বা লাকড়ি দিয়েই হোক এটা গ্রহনযোগ্য না। যদি অভিযোগ সত্য হয় তাহলে এ রকম একটি ঐতিহাসিক বাড়িতে রান্না মোটেই মেনে নেয়া যায় না। এই অভিযোগ সত্য হয়ে গেলে এটা অপরাধ বলেই গণ্য হবে। রান্নার আগুনে যেকোন সময় দুর্ঘটনায় ভস্মীভূত হতে পারে এ অঞ্চলের এই ঐতিহাসিক সম্পদ।
আমরা চাই সোনালি ব্যাংক থেকে এই বাড়ির লিজ বাতিল করে এটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করবে এবং দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে। যত দ্রুত সম্ভব।
Leave a Reply