
সাভারে ভয়াবহ রানা প্লাজা ধসের ১৩ বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সংঘটিত এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আজও দেশের শ্রমিক ইতিহাসে এক কালো অধ্যায় হিসেবে স্মরণ করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষে শুক্রবার সকালে সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকার রানা প্লাজার সামনে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচি পালন করে। এ সময় অস্থায়ী শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে নিহত শ্রমিকদের স্মরণ করা হয়। কর্মসূচিতে অংশ নেন নিহতদের স্বজন, আহত শ্রমিক এবং বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় জড়িতদের বিচার প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি। তারা অবিলম্বে ভবনটির মালিক সোহেল রানাসহ দায়ীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানান। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক ও তাদের পরিবারের পূর্ণ পুনর্বাসনের আহ্বানও জানানো হয়।
অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের এদিন আটতলা রানা প্লাজা ভবন ধসে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ শিল্প দুর্ঘটনা ঘটে। এতে প্রাণ হারান ১,১৩৮ জন শ্রমিক এবং আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ২,৪৩৮ জনকে। ভবনটির বিভিন্ন তলায় একাধিক গার্মেন্টস কারখানা ছাড়াও ব্যাংক, দোকান ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছিল।
দুর্ঘটনায় বেঁচে ফেরা অনেক শ্রমিক এখনও শারীরিক জটিলতা ও আর্থিক সংকটে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কেউ কেউ ছোট পরিসরে জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা করলেও অনেকেই স্থায়ীভাবে কর্মক্ষমতা হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েছেন।
এদিকে, একই দাবিতে বিকেলেও রানা প্লাজার সামনে পৃথকভাবে প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে রানা প্লাজা এবং আশুলিয়ার তাজরীন গার্মেন্টস দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক ও তাদের পরিবার অংশ নেন। বক্তারা উভয় ঘটনার দায়ীদের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের দাবি জানান।
প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর আশুলিয়ার তাজরীন গার্মেন্টসে অগ্নিকাণ্ডে ১১৪ জন শ্রমিক নিহত হন। দুই ট্র্যাজেডির স্মৃতি আজও শ্রমিক সমাজকে নাড়া দিয়ে যাচ্ছে।


Leave a Reply