
ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলা সদরের বুক চিরে প্রবাহিত খড়িয়া নদীতে চলতি বোরো মৌসুমে কয়েক হাজার একর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। ভালো ফলনের আশায় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটলেও সামান্য বৃষ্টিতেই সেই হাসি এখন ম্লান হয়ে গেছে। জলাবদ্ধতায় আধাপাকা ধান তলিয়ে যাওয়ায় চরম দুঃশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,ব্রহ্মপুত্র-খড়িয়া নদীর উৎস মুখ ভরাট করে বাড়িঘর নির্মাণ এবং কংস-খড়িয়ার সংযোগস্থল ভরাট হয়ে যাওয়ায় নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই আশপাশের বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে।এতে অনেক কৃষকের কাঁচা ও আধাপাকা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। গত ৩ দিনের মুষলধারে বৃষ্টি তাদের স্বপ্নের কফিনে শেষ পেরেক ঠোকে দিলো। আজ ২৯ এপ্রিল বুধবার সরেজমিনে দেখা গেলো পাকা ধানের উপর দিয়ে ২/৩ ফুট পানি।
দিশেহারা কৃষকরা বাধ্য হয়ে তলিয়ে যাওয়া ধান দ্রুত কেটে ঘরে তোলার চেষ্টা করছেন। এতে এলাকায় শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে।শ্রমিকরা প্রতিদিন এক হাজার টাকা মজুরিতে কাজ করতে চুক্তি করছেন।অন্যদিকে ধানের বাজার মূল্য প্রতি মণ মাত্র ৭০০ টাকা হওয়ায় বোরো আবাদ এবার কৃষকদের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রূপসী ইউনিয়নের উত্তর-পশ্চিম ঘোমগাঁও, নগরভেরা, কুঁড়িপাড়া এলাকার জালবাড়ির খাল সংলগ্ন খড়িয়া নদী এলাকায় জলাবদ্ধতার চিত্র আরও ভয়াবহ। স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বেন তারা।
কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা কংস-খড়িয়া সংযোগস্থল খননের মাধ্যমে খড়িয়া নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ নিশ্চিত করতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
Leave a Reply