
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগকে (বিপিএল) কেন্দ্র করে ফিক্সিং, বেটিং এবং দুর্নীতির অভিযোগে পাঁচজন ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শাস্তির আওতায় এনেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দীর্ঘ তদন্ত ও প্রমাণ পর্যালোচনার পর বৃহস্পতিবার (৭ মে) মিরপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান বিসিবির অ্যাডহক কমিটির প্রধান তামিম ইকবাল খান।
বিসিবির ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের (BCBIU) তদন্তে বেটিং, দুর্নীতির প্রস্তাব গোপন এবং তদন্তে অসহযোগিতার মতো গুরুতর সব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।
অভিযুক্ত ও শাস্তির ধরণ:
তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন একজন ক্রিকেটার, দুইজন টিম ম্যানেজার এবং একজন ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক। তারা হলেন:
অমিত মজুমদার (ক্রিকেটার): তার বিরুদ্ধে ম্যাচের ফলাফল বা অগ্রগতির ওপর সরাসরি বেটিংয়ে অংশ নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
মো. তৌহিদুল হক তৌহিদ (ফ্র্যাঞ্চাইজি সহ-মালিক): তদন্তে বাধা সৃষ্টি এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য ধ্বংসের অভিযোগ।
মো. লাবলুর রহমান ও রেজওয়ান কবির সিদ্দিকী (টিম ম্যানেজার): তদন্তে অসহযোগিতা, ডিমান্ড নোটিশ উপেক্ষা এবং তথ্য গোপনের অভিযোগ।
সামিনুর রহমান: ‘BCB Excluded Person Policy’ অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে পৃথক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। সামিনুর আন্তর্জাতিক বেটিং চক্রের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন।
কঠোর অবস্থানে বিসিবি:
সংবাদ সম্মেলনে তামিম ইকবাল জানান, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর পুরো বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন। তিনি বলেন,
”আমি প্রশ্ন করেছি আমাদের কাছে কি যথেষ্ট প্রমাণ আছে? ইতিবাচক উত্তর পাওয়ার পর আমি বলেছি—এক্সিকিউট করেন। দুর্নীতির প্রশ্নে বোর্ড কোনো আপস করবে না।”
উল্লেখ্য, অভিযুক্ত পাঁচজনকে বর্তমানে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য ১৪ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে, যেখানে তারা লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিতে পারবেন।
তদন্তের প্রেক্ষাপট:
বিপিএল ২০২৫ মৌসুমকে ঘিরে ফিক্সিংয়ের অভিযোগ উঠলে তৎকালীন সভাপতি ফারুক আহমেদের নির্দেশে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। প্রায় ৯০০ পৃষ্ঠার দীর্ঘ তদন্ত প্রতিবেদনটি পরবর্তীতে বিসিবির ইন্টেগ্রিটি ইউনিট প্রধান এবং আইসিসির সাবেক দুর্নীতি বিরোধী প্রধান অ্যালেক্স মার্শালের কাছে পাঠানো হয়। মার্শাল স্বাধীনভাবে প্রতিবেদনটি যাচাই করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক প্রমাণ পান।
বিসিবি জানিয়েছে, বিপিএলকে কলঙ্কমুক্ত রাখতে এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে এ ধরনের কঠোর ব্যবস্থা নিয়মিত চলমান থাকবে।
Leave a Reply