
কুড়িগ্রামের রৌমারী ও চররাজিবপুর উপজেলায় ঘন ঘন লোডশেডিং ও লো-ভোল্টেজ জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। প্রচণ্ড গরমে মানুষ বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় দুর্বিষহ সময় পার করছে। বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা ও ট্রল বাড়ছে প্রতিদিনই।
লন্ডন পৌঁছেছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৬-১৮ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকে না। বাকি সময়ে বিদ্যুৎ এলেও তা লো-ভোল্টেজে থাকে, যা দিয়ে ফ্যান, এসি এমনকি কম্পিউটারও চালানো সম্ভব হয় না। ফলে বাসাবাড়ি থেকে শুরু করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও খামার পর্যন্ত ক্ষতির মুখে পড়ছে।
চররাজিবপুরের কাচারিপাড়া এলাকার খামার ব্যবসায়ী শাহজাহান বাবু জানান, “বিদ্যুৎ না থাকায় এবং লো-ভোল্টেজের কারণে খামারের ব্রয়লার মুরগিগুলো অসুস্থ হয়ে মরছে। এতে আমরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছি। অথচ মাস শেষে বিদ্যুতের বিল ঠিকই গুনতে হয়। বিদ্যুৎ বিভাগ আমাদের সঙ্গে যেন মশকরা করছে।”
স্থানীয় সাংবাদিক সুজন মাহমুদ বলেন, “কম্পিউটার চালানো যায় না বলে সংবাদ প্রেরণ করা যাচ্ছে না। দিনে ঘটনাবহুল সময় গেলেও রিপোর্ট পাঠানো সম্ভব হয় না। সরকারি অফিস ও সাধারণ মানুষের কাজেও মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে।”
রৌমারীর বিভিন্ন বাসিন্দা—রাজু আহমেদ, মামুন মোল্লা, সুখ বাদশা, আলতাফ হোসেন হিটলার, আইয়ুব হোসেনসহ অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বিদ্যুৎ নেই বললেই চলে। দিনে মাত্র কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ আসে তাও আবার লো-ভোল্টেজ। এমন অবস্থা আর চলতে পারে না। যদি দ্রুত সমাধান না হয়, মানুষ বিকল্প পথ খুঁজে নিতে বাধ্য হবে।”
রৌমারী জেনারেল হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক মাহবুব আলম বলেন, “প্রচণ্ড গরমে রোগীর চাপ বাড়ছে, অথচ বিদ্যুৎ না থাকায় চিকিৎসা সেবায় সমস্যা হচ্ছে। বিদ্যুৎ আসলেও তা কাজে লাগছে না, কারণ ভোল্টেজ এতটাই কম যে যন্ত্রপাতি সচল রাখা যাচ্ছে না।”
এ বিষয়ে জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির রৌমারী জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, “বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হওয়ায় সর্বোচ্চ লোড চলছে। রৌমারী ও চররাজিবপুরে আমাদের প্রায় ৮০ হাজার গ্রাহক রয়েছে। এখানকার বিদ্যুতের চাহিদা ২২ মেগাওয়াট হলেও বর্তমানে সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ১২ থেকে ১৪ মেগাওয়াট।”
যমুনা নদীতে গোসলে নেমে নিখোঁজ দশম শ্রেণির ছাত্র
তিনি আরও জানান, “শেরপুর থেকে ৩৩ কেভি লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ার কথা থাকলেও তা নিচে নেমে যাচ্ছে, ফলে লোডশেডিং বেড়েছে। তবে আশা করছি শিগগিরই পরিস্থিতির উন্নতি হবে।”
জনগণের জোর দাবি—রৌমারী ও চররাজিবপুরের বিদ্যুৎ সমস্যার দ্রুত সমাধান হোক, যেন ন্যূনতম নাগরিক সুবিধা ভোগ করতে পারে এলাকার মানুষ।
Leave a Reply