
বরিশাল বিভাগের ঝালকাঠি জেলা এখন দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে একটি নতুন গন্তব্য হিসেবে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। বিশেষ করে সদর উপজেলার ভিমরুলি, শিয়ালকাঠি ও সুড়িয়া এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে থাকা খালঘেঁষা ভাসমান পেয়ারা বাগান যেন প্রকৃতির এক অপরূপ সৌন্দর্যবিধৌত চিত্র।
ছোট ছোট খালে নৌকাভ্রমণের অভিজ্ঞতা আর পানির উপর ভেসে থাকা পেয়ারার ভেলাগুলো দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন শত শত পর্যটক। বর্ষাকালে এ দৃশ্য আরও মোহময় হয়ে ওঠে। কাঠের ভেলায় পেয়ারা সাজিয়ে বিক্রির দৃশ্য শুধু দর্শনীয়ই নয়, এটি কৃষির সাথে প্রত্যক্ষ সংযোগ তৈরি করে দর্শনার্থীদের জন্য।
এর পাশে কৃত্তিপাশা গ্রামের ঐতিহাসিক জমিদার বাড়িটি যুক্ত করেছে অতীতের ঐতিহ্যের ছোঁয়া। দেড় শত বছরের পুরনো এই স্থাপনাটি এখনও জমিদার আমলের শৈল্পিক নির্মাণশৈলী বহন করে চলেছে। পর্যটকরা এখানে এসে ইতিহাস, স্থাপত্য এবং গ্রামীণ সংস্কৃতির এক অনন্য সমন্বয় উপভোগ করতে পারেন।
এছাড়াও আশেপাশে রয়েছে গাবখান চ্যানেল, সুগন্ধা নদী, চন্দ্রকাঠি বাজারসহ বেশ কিছু দর্শনীয় স্থান, যেখানে গ্রামীণ বাংলার সহজ-সরল জীবনধারা মুগ্ধ করে দর্শনার্থীদের।
প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ইতোমধ্যে ভাসমান পেয়ারা বাগানকে কেন্দ্র করে ইকো-ট্যুরিজম এবং স্থানীয় অর্থনীতি উন্নয়নে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ও কৃষিপণ্য অভিজ্ঞতার অপূর্ব মিশ্রণে ঝালকাঠির ভাসমান পেয়ারা বাগান এবং কৃত্তিপাশা জমিদার বাড়ি হয়ে উঠছে বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ। আর বর্ষাকাল—এই অভিজ্ঞতা নেওয়ার জন্য নিঃসন্দেহে সেরা সময়।
Leave a Reply