
ধারাবাহিক বর্ষণে জলাবদ্ধতায় সবজী ও আমনের বীজতলা পঁচে গিয়ে হাজার হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চরফ্যাশন উপজেলার চরাঞ্চলের নিচু এলাকায় কয়েকদিনের বৃষ্টিতে এসব ক্ষেতখামার প্লাবিত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন আমন বীজতলা ও সবজি চাষিরা। চরফ্যাশন উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য সূত্রে জানা যায়,১৭০ হেক্টর জমির আমন বীজতলা এবং ১২১০ হেক্টর জমির সবজিক্ষেত ও খামার পানিতে তলিয়ে গিয়েছে। এতে করে আমন মৌসুমে চারা সংকট এবং সবজির দাম বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে ।
কৃষি বিভাগ জানায়, ১০দিনে ৭০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা গত প্রায় পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। টানা বর্ষণে উপজেলার পুকুর খাল-বিল জলাশয়গুলো বৃষ্টি ও নদীর জোয়ারের পানির প্রভাবে পূর্ণ হয়ে যায়। মেঘনা তেঁতুলিয়া ও বুড়াগৌরাঙ্গ নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় উপকূলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ফসলি জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে এ সবজী ও আমনের বীজতলা নষ্ট হয়ে গিয়েছে।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা বিকাশ চন্দ্র বলেন, উপজেলার মাদ্রাজ,আসলামপুর,কুকরি-মুকরি চর পাতিলা,চর নিজাম,মাঝের চর,চর মানিকা চর কচ্ছপিয়া,নীল কমল চর মুজিব নগর,চর যমুনা,ঘোষের হাট বাংলা বাজার,চর লিউলিন,নজরুল নগর চর নলুয়া,বাবুরহাট ভক্তিরহাটসহ আরও বিভিন্ন উপকূলীয় এবার টানা বৃষ্টিতে ব্যাপক জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে ক্ষেতের সবজী জাতীয় ফসল ও আমনের বীজতলার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবে নতুন করে বৃষ্টি না হলে এবং রোদ উঠলে আমন বীজতলার ক্ষতি কিছুটা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব বলেও জানান উপ-সহকারি এ কর্মকর্তা।
আসলামপুর ইউনিয়নের খোদেজাবাগ গ্রামের কৃষক আবুল কাশেম মৃধা বলেন, বৃষ্টি ও বাতাসে গ্রামের কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। লবণাক্ত পানির কারণে ধান চাষ করতে পারিনা তবে এই এলাকায় প্রচুর সবজী খামার রয়েছে। এসব খামারিদের সবজীর ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তাদের জন্য সরকারি প্রণোদনা বা আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন। নীলকমল বাংলাবাজার এলাকার চাষি খলিলুর রহমান বলেন,বৃষ্টি বন্যায় তেঁতুলিয়া নদীর পানি খাল দিয়ে ঢুকে আমাদের সবজী ও আমনের বীজতলা পঁচে গিয়েছে। বৃষ্টি থামতেই আবার নতুন করে বীজতলা তৈরিতে
নেমেছেন তারা। এতে করে বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে কৃষকদের।
কৃষকরা বলছেন, জ্যৈষ্ঠ মাসের মাঝামাঝি থেকে আষাঢ় মাসের শেষ সপ্তাহ
পর্যন্ত বীজতলা তৈরি করা হয়। এসব আমনের চারা শ্রাবণ মাসের প্রথম সপ্তাহ
থেকে ভাদ্র মাসের মাঝামাঝি পযর্ন্ত রোপণ করা হয়। এবার তারা সময়মতো বীজতলা
তৈরি করেছিলেন। তবে গত ১০ দিনের টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।
নদ-নদীতেও পানি বেড়েছে। ফলে চরাঞ্চলসহ নিম্নাঞ্চলের প্রায় সব বীজতলা
পানির নিচে। জলাবদ্ধতার কারণে উপজেলার অনেক এলাকায় বীজতলা পুরোপরি পানির
নিচে আছে।
হাজারীগঞ্জ চরফকিরা ৬নং ওয়ার্ড এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আবহাওয়া ভালো হওয়ার
সাথে সাথেই নতুন করে জমি বাছাই করে বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন
এমনটা জানান, কৃষক মো: সিরাজ পাটওয়ারি।
কৃষক মো: রফিক ও মো: হারুন জানান, ‘ঘন ঘন বৃষ্টিতে বীজতলা ডুবে গেছে।
সবগুলো চারা নষ্টের উপক্রম। নতুন করে বীজতলা তৈরির জন্য বেশি দামে বীজ
কেনা লেগেছে। এতে আমন চাষ প্রায় ২০ দিন পিছিয়ে যাবে। ’আষাঢ়ের ১৫ তারিখ
পর্যন্ত টানা বৃষ্টির কারণে শ্রাবণের ৫ তারিখে বীজতলা তৈরীর জন্য জমি
প্রস্তুত করছি। এখন দেরি হওয়ায় আমাদের অন্যান্য ফসল আসতেও দেরি হবে
যে কারণে ফসল উৎপাদনও কম হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা সানাউল্লাহ আযম জানান, সবজী চাষিদের মাঠের ফসল রক্ষায় দূর্যোগ থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য বর্ষাকালীন সবজী মাঠের কেইল বা আইল মাদা মাটি দিয়ে করে ১ফিট উঁচু করলে ফসল রক্ষা পাবে।কৃষকদের বন্যা পরবর্তী দ্রুত পানি অপসারণসহ প্রযুক্তিগত পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নাজমুল হুদা বলেন,কৃষি দপ্তর থেকে কৃষকদের
সার্বক্ষনিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে যাতে কৃষকরা দ্রুত পানি নামার
ব্যবস্থা করে এবং যাদের বীজতলা নষ্ট হয়েছে তাদের আমন বীজতলা তৈরিতে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ সহায়তায় সরজমিন পরিদর্শন করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
Leave a Reply