
একেই বলে বিশ্বনেতা! তুর্কি প্রেসিডেন্টের ধোলাই সহ্য করতে না পেরে হলরুম ছেড়ে পালালো ইসরায়েলি প্রতিনিধি দল!
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনের মঞ্চে দাঁড়িয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতির দ্বিচারিতার বিরুদ্ধে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। কোনো রকম কূটনৈতিক চাটুকারিতা না করে, সরাসরি বিশ্বনেতাদের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি ফিলিস্তিনের বর্তমান মানবিক পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন।
এরদোয়ান বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি কেবল একটি ভূখণ্ডগত দ্বন্দ্ব নয়, এটি আমাদের সময়ের সবচেয়ে বড় মানবিক বিপর্যয়। আজ সেখানে অসংখ্য নিষ্পাপ শিশু চিরতরে হারিয়ে যাচ্ছে এবং হাজার হাজার শিশু হাত-পা হারিয়ে কৃত্রিম অঙ্গ নিয়ে বেঁচে থাকার লড়াই করছে।
আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি হওয়া সত্ত্বেও অপর পক্ষের অনীহার কারণে শান্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে না। এক পক্ষ শান্তির পরবর্তী ধাপে যেতে রাজি হলেও, অপর পক্ষ তাদের দখলদারিত্ব ও আগ্রাসী মনোভাব বজায় রেখেছে।
বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য যে সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, আজ তারা পুরোপুরি অকেজো। এরদোয়ান আক্ষেপ করে বলেন, নিষ্পাপ মানুষের জীবন রক্ষায় ব্যর্থ হয়ে এই বৈশ্বিক সংস্থাটি নিজের কার্যকারিতা ও নৈতিক ভিত্তি হারাচ্ছে।
তার বিখ্যাত স্লোগান “পৃথিবী ৫ দেশের চেয়ে বড়” আবার মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ১৯০টিরও বেশি দেশের ভবিষ্যৎ এবং লাখ লাখ মানুষের ভাগ্য মাত্র কয়েকটি স্থায়ী সদস্য দেশের খামখেয়ালির ওপর জিম্মি থাকতে পারে না। তথ্য সরবরাহ বন্ধ এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বাধা দিয়েও ওখানকার বাস্তব পরিস্থিতি পৃথিবীর চোখ থেকে আড়াল করা সম্ভব হয়নি।
ভাষণে তিনি এক টুকরো রুটি বা সামান্য খাবারের জন্য নারীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন এবং প্রশ্ন করেন, বর্তমান যুগে এসে এই ধরনের নিষ্ঠুরতার পেছনে কি কোনো যৌক্তিক অজুহাত থাকতে পারে?
ভাষণের শেষে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, যেসব দেশ এখনো ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি, তাদের এখনই সিদ্ধান্ত বদলানোর সঠিক সময়। অবিলম্বে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান করে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল পুনর্গঠনের কাজ শুরু করতে হবে।
যখন পুরো বিশ্ব নিজের সুবিধামতো চোখ বন্ধ করে রেখেছে, তখন অন্তত একজন দূরদর্শী নেতা আছেন যিনি আন্তর্জাতিক মঞ্চে দাঁড়িয়ে মুসলিমদের ওপর অন্যায়ের বিরুদ্ধে সত্য কথাগুলো মুখের ওপর বলতে দ্বিধা করেননি।
তুর্কি প্রেসিডেন্টের এই জোরালো যুক্তি ও কড়া অবস্থানের মুখে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের পক্ষে কোনো জবাব দিতে না পেরে, ভাষণের মাঝপথেই ইসরায়েলি প্রতিনিধি দল জাতিসংঘের হলরুম থেকে আসন ছেড়ে বেরিয়ে যায়। অপরদিকে, সেখানে উপস্থিত ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিরা এরদোয়ানের বক্তব্যকে দাঁড়িয়ে হাততালি দিয়ে স্বাগত জানান।
Leave a Reply