
মুখ দিয়ে লিখে পিইসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া যশোরের লিতুন জিরা এবার এসএসসি পরীক্ষাতেও বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাকে থামিয়ে রাখতে পারেনি। শুরু থেকেই পাশে ছিল বসুন্ধরা গ্রুপ।
জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় দুঃখ প্রকাশ
লিতুন জশোরের মণিরামপুর উপজেলার গোপালপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী। নেহালপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র থেকে সে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। বাবা হাবিবুর রহমান ও মা জাহানারা বেগমের সন্তান লিতুন ২০১৯ সালে পিইসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করে আলোচনায় আসে। পরে ২০২০ সালের ১৮ জানুয়ারি বসুন্ধরা গ্রুপ তার পাশে দাঁড়ায়। গ্রুপটির ভাইস চেয়ারম্যান সাফিয়াত সোবহানের পক্ষ থেকে ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. রেদোয়ানুর রহমান লিতুনের হাতে পাঁচ লাখ টাকার চেক, স্কুল ব্যাগ ও উপহারসামগ্রী তুলে দেন।
২০২৫ সালের এপ্রিলে দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকায় “সেই লিতুন জিরা এবার এসএসসি পরীক্ষায় বসছে” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। এবার তার সাফল্যের খবর আরও একধাপ এগিয়ে গেল।
ফলাফল প্রসঙ্গে লিতুন বলেন, ‘আমি সমাজের বোঝা হতে চাই না। মানুষের মতো মানুষ হয়ে সমাজের সেবা করতে চাই। যারা পাশে ছিল, বিশেষ করে মা-বাবা, শিক্ষক-শিক্ষিকা, সহপাঠী ও বসুন্ধরা গ্রুপ—তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।’
লিতুনের বাবা হাবিবুর রহমান বলেন, ‘লিতুন আমার কাছে কোনো বোঝা নয়, বরং সে গর্বের বিষয়। জিপিএ-৫ পাওয়ায় আমরা আনন্দিত। সবাই তার জন্য দোয়া করবেন।’ মা জাহানারা বেগম বলেন, ‘ওর এই ফলাফলে আমি কৃতজ্ঞ এবং সবার দোয়া চাই।’
সহপাঠী সজীব হোসেন বলেন, ‘লিতুন খুব মেধাবী ও প্রিয় বন্ধু। তার সাফল্যে আমরা সবাই খুশি।’
গোপালপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘লিতুন শুধু শ্রেণির প্রথম নয়, স্কুলের মধ্যেও অন্যতম মেধাবী ছাত্রী। সে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয়। তার এই সাফল্যে আমরা গর্বিত।’
শহীদ মাসরুর আন্দোলনের পথে জীবন উৎসর্গকারী এক সৈনিক
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিশাত তামান্না বলেন, ‘লিতুনের অধ্যবসায় ও অদম্য ইচ্ছাশক্তি তাকে আজ এই অবস্থানে এনেছে। আমি নিয়মিত তার খোঁজখবর রেখেছি। তার ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা রইল।’
Leave a Reply