
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ রাষ্ট্র সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক বিষয়গুলোতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইসির অষ্টম সভা অনুষ্ঠিত: চার সংশোধনী অধ্যাদেশসহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের এজেন্ডা
আজ রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমির দোয়েল হলে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কমিশনের দ্বিতীয় পর্যায়ের একাদশ বৈঠকের প্রারম্ভিক বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
ড. রীয়াজ বলেন, “প্রথম পর্যায়ের দুই মাসব্যাপী আলোচনায় অনেক বিষয়ে ইতোমধ্যে ঐকমত্য গড়ে উঠেছে, যা জাতীয় সনদ প্রণয়নের পথে বড় অগ্রগতি। এখন প্রয়োজন রাষ্ট্র সংস্কারের মৌলিক বিষয়গুলোতে একমত হওয়া।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো—সবার অংশগ্রহণে একটি জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে ‘জুলাই সনদ’ প্রণয়ন এবং রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করা। এমন একটি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে ভবিষ্যতে আর কোনো ফ্যাসিবাদী শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুযোগ না থাকে।”
ড. রীয়াজ জানান, যেসব বিষয়ে কমিশন ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অগ্রগতি হয়েছে, তা দ্রুত চূড়ান্ত করতে চায় কমিশন। তিনি বলেন, “লক্ষ্যের ক্ষেত্রে আমাদের মধ্যে কোনো মতানৈক্য নেই, সবার উদ্দেশ্য এক এবং অভিন্ন।”
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সকলের সহযোগিতায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই, অর্থাৎ জুলাইয়ের মধ্যেই জাতীয় সনদের খসড়া প্রস্তুত করা সম্ভব হবে।
আজকের বৈঠকে কমিশনের অন্যান্য সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. বদিউল আলম মজুমদার, সফর রাজ হোসেন, ড. মো. আইয়ুব মিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।
এদিনের আলোচনায় বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি এবং আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টিসহ মোট ৩০টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।
এস কে সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন ৮ সেপ্টেম্বর
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আজকের বৈঠকে মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে—প্রধান বিচারপতির নিয়োগ পদ্ধতি, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা এবং জরুরি অবস্থা ঘোষণার বিধান।
Leave a Reply