
ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বর্ণযুগের নীরব সাক্ষী এক প্রাচীন বন্দরনগরী
বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের নদীবিধৌত জনপদ ঝালকাঠি একসময় ছিল ব্যবসা-বাণিজ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। সুগন্ধা, বিষখালী, বাসন্ডা ও ধানসিঁড়ি নদী বেয়ে কলকাতা, মাদ্রাজ, চট্টগ্রাম থেকে প্রতিদিন শতাধিক পণ্যবাহী নৌযান ভিড় করত এই বন্দরে। স্থানীয়দের মুখে মুখে এখনো ঘোরে সেই সময়ের কথা, যখন ঝালকাঠিকে বলা হতো ‘দ্বিতীয় কলকাতা’।
১৮শ শতকের শেষ ভাগ থেকে ২০শ শতকের প্রথমার্ধ পর্যন্ত বন্দরনগরী হিসেবে ঝালকাঠির খ্যাতি ছিল তুঙ্গে। নদীপথের সুবিধাকে কেন্দ্র করেই এখানে গড়ে উঠেছিল গুড়, পাট, কাঠ, চামড়া, মাছ, নারকেল ও মসলার পাইকারি বাজার। গড়ে ওঠে অসংখ্য গুদামঘর, ঘাট, ব্যবসায়ী সংগঠন। হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান, মারোয়ারি ও উড়িয়া ব্যবসায়ীদের পদচারণায় মুখর থাকত বন্দরটি।
তৎকালীন ঝালকাঠির তৈরি কাঠের নৌকা, সাম্পান, ও কারুকাজখচিত ফার্নিচার বিদেশেও রপ্তানি হতো। এখানকার গুড় ও নারকেলের চাহিদা ছিল কলকাতা ও বার্মায়। তখন রেলপথ না থাকলেও নদীপথের উপর নির্ভর করে এই শহর হয়ে উঠেছিল আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নদী ভরাট, অবকাঠামো অবনতি ও যোগাযোগব্যবস্থার পরিবর্তনে হারিয়েছে সেই জৌলুস। এখন তা কেবল স্মৃতি আর ইতিহাসের পাতায়।
তবে ইতিহাসপ্রেমী ও গবেষকরা মনে করেন, সঠিক পরিকল্পনা, পর্যটন উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক সংরক্ষণ কার্যক্রম গ্রহণ করা গেলে প্রাচীন এ বন্দর নগরী আবারও ফিরে পেতে পারে তার ঐতিহাসিক গুরুত্ব।
Leave a Reply