ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের বিধিমালায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংশোধিত বিধিমালায় চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত সদস্য ও সাধারণ সদস্য পদে নির্দলীয় প্রতীকের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রার্থীদের জামানত, নির্বাচনি ব্যয়সীমা, হলফনামা ও ব্যয়ের লেনদেনসংক্রান্ত নিয়মেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচন বিধিমালা, ২০১০-এর সংশোধনীসংক্রান্ত গেজেট ১৭ সেপ্টেম্বর জারি করা হলেও তা ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করা হয়। সংশোধিত বিধিমালায় ইউপি নির্বাচনের জন্য মোট ৪২টি প্রতীক নির্ধারণ করা হয়েছে।
▪️চেয়ারম্যান পদে ২০ প্রতীক:
চেয়ারম্যান প্রার্থীদের জন্য নির্ধারিত ২০টি প্রতীক হলো—কম্পিউটার, কলার ছড়ি, ঘণ্টা, ঘোড়া, চিংড়ি, জগ, টেবিল, টেবিলঘড়ি, টেলিফোন, দালান, দোতলা বাস, পাগড়ি, বেবিট্যাক্সি, ময়ূর, মোবাইল ফোন, মোটরসাইকেল, মোড়া, রেল ইঞ্জিন, সোফা ও হাঁস।
▪️সংরক্ষিত সদস্য পদে ১০ প্রতীক:
সংরক্ষিত সদস্য প্রার্থীদের জন্য রাখা হয়েছে—আলমারি, কলস, ড্রেসিং টেবিল, পালকি, ফলের ঝুড়ি, মাইক, সেলাই মেশিন, সূর্যমুখী ফুল, হরিণ ও হেলিকপ্টার।
▪️সাধারণ সদস্য পদে ১২ প্রতীক:
সাধারণ সদস্য প্রার্থীদের জন্য নির্ধারিত প্রতীক হলো—উট, কাপ-পিরিচ, ঘুড়ি, জাহাজ, টর্চলাইট, টিউবওয়েল, ট্রাক্টর, তালা, ফুটবল, বৈদ্যুতিক পাখা, বৈদ্যুতিক বাল্ব ও মোরগ।
▪️বাড়ল প্রার্থীদের জামানত:
সংশোধিত বিধিমালায় চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত ৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। সদস্য প্রার্থীদের জামানত ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
কোনো প্রার্থী সংশ্লিষ্ট নির্বাচনে প্রদত্ত মোট ভোটের ন্যূনতম ১৫ শতাংশ না পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। ১৫ শতাংশ বা তার বেশি ভোট পেলে নির্ধারিত নিয়মে জামানত ফেরত পাওয়ার সুযোগ থাকবে।
▪️নির্ধারণ করা হয়েছে নির্বাচনি ব্যয়ের সীমা:
নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, চেয়ারম্যান পদে একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা নির্বাচনি ব্যয় করতে পারবেন। সাধারণ ও সংরক্ষিত সদস্য প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ব্যয়সীমা ২ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাব পরিচালনার জন্য প্রার্থী বা তার নির্বাচনি এজেন্টকে নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাব ব্যবহারের বিধান রাখা হয়েছে। চেয়ারম্যান প্রার্থীর কোনো খাতে ২০ হাজার টাকা বা তার বেশি ব্যয়ের অর্থ চেকের মাধ্যমে পরিশোধের বিধানও রাখা হয়েছে।
▪️চেয়ারম্যান প্রার্থীর মনোনয়নেও নতুন শর্ত:
সংশোধিত বিধিমালায় চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতার ক্ষেত্রে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে ১২ ডিজিটের টিআইএন সনদ এবং আয়কর রিটার্নের কপি দেওয়ার বিধান যুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি হলফনামায় প্রার্থীর তথ্য আরও স্পষ্টভাবে উপস্থাপনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া নির্বাচনি অনিয়ম বা বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতাও সংশোধিত বিধিমালায় আরও স্পষ্ট করা হয়েছে।
▪️নির্দলীয় প্রতীকে ইউপি নির্বাচন:
সংশোধিত বিধিমালায় ইউপি নির্বাচনের জন্য দলীয় প্রতীকের পরিবর্তে নির্দলীয় প্রতীকের তালিকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে প্রার্থীদের জন্য নির্ধারিত স্বতন্ত্র প্রতীক ব্যবহারের বিধান রাখা হয়েছে।
এ পরিবর্তনের ফলে আসন্ন ইউপি নির্বাচন পরিচালনা ও প্রার্থীদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে নতুন কিছু নিয়ম কার্যকর হবে। তবে নির্বাচন কমিশন কবে ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে, তা এই সংশোধিত বিধিমালায় নির্ধারণ করা হয়নি।
Leave a Reply