
আশুলিয়ার জামগড়ায় প্রীতি গ্রুপের কারখানা এলাকায় বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর অনুমোদনহীনভাবে সিলিন্ডার পরিবহনকারী ভ্যান ও লরিতে গ্যাস সরবরাহ না করার নির্দেশ দিয়েছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড।
বাংলাদেশ সিএনজি অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তানভীর রহমান জানান, তিতাস গ্যাসের নির্দেশনার পর উত্তরা, আশুলিয়া, নবীনগর, বাইপাইল ও চন্দ্রা এলাকার সিএনজি স্টেশনগুলোতে অনুমোদনহীনভাবে সিলিন্ডার বহনকারী যানবাহনে গ্যাস না দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, এর আগেও এ ধরনের যানবাহনে গ্যাস সরবরাহ না করার বিষয়ে তিতাসের লিখিত নির্দেশনা ছিল। তবে বিভিন্ন সময়ে মৌখিকভাবে গ্যাস সরবরাহের কথা বলা হয়েছে বলে স্টেশন মালিকদের অভিযোগ। এ ধরনের যানবাহনে গ্যাস সরবরাহের পর কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে দায়ভার স্টেশন কর্তৃপক্ষের ওপরও আসতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই তারা ঝুঁকি নিতে চাইছেন না।
তিতাস গ্যাসের আশুলিয়া জোনাল বিক্রয় কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী আবু সালেহ মোহাম্মদ খাদেমুদ্দিন জানান, অনুমোদনহীনভাবে সিলিন্ডার পরিবহনকারী যানবাহনে গ্যাস সরবরাহ না করার বিষয়ে আগে থেকেই সতর্ক করা হয়েছিল। প্রীতি গ্রুপের দুর্ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট সিএনজি স্টেশনগুলোতে পুনরায় চিঠি দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জানান, সিএনজি স্টেশনগুলোতে গ্যাস সরবরাহ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণের মূল দায়িত্ব তিতাস গ্যাস ও বিস্ফোরক অধিদপ্তরের। প্রশাসনের সহযোগিতার প্রয়োজন হলে তা করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ২০ সেপ্টেম্বর আশুলিয়ার জামগড়ায় প্রীতি গ্রুপের কারখানা এলাকায় বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে পরবর্তী সময়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে আটজনে দাঁড়ায় এবং অন্তত ২৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।
অনুমোদনহীনভাবে সিলিন্ডার পরিবহন ও সংশ্লিষ্ট যানবাহনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধে নেওয়া এ উদ্যোগকে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে একটি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে শুধু নির্দেশনা জারি নয়, এর কার্যকর বাস্তবায়ন ও নিয়মিত তদারকিও গুরুত্বপূর্ণ।
Leave a Reply