
অনলাইনে শিক্ষা নিয়ে সারা দেশে সমালোচনা হচ্ছে এটা স্বীকার না করে শিক্ষা মন্ত্রী স্রেফ জানিয়ে দিলেন ৫৫ শতাংশ মানুষ অনলাইনে শিক্ষা চায়। এই ৫৫ শতাংশ মানুষের মাঝ থেকে প্রমাণ সরূপ তিনি কি অন্তত মাত্র ৫ জন মানুষকে দেখাতে পারবেন যারা এমন উদ্ভট ইচ্ছা পোষণ করেছে?
আমাদের শিশুদের নিয়ে ইতিপূর্বে সব গভমেন্ট গিনিপিগ গিনিপিগ খেলেছে। এর মধ্যে শিশুদের নিয়ে শিক্ষা বিভাগ কত বড় একটা গিনিপিগ গেইম খেলা খেলে ফেলল তা হয়ত আমরা কেউ চিন্তা করিনি!
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষা বিভাগ ন্যাক্কারজনক একটা খেলা খেলল। আমরা অভিভাবকরা সয়ে গেলাম। অথচ এই প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা শিশুদের উপর কতটুকু চাপে ফেলে দিল তা একটু চিন্তা করেন।
প্রথম খেলা হলো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বেসরকারি কিন্ডারগার্টেন স্কুল ইস্যূতে। এই বিষয়ে সরকার পুরোপুরি হার্ড লাইনে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছাড়া অন্যকোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বৃত্তি পরীক্ষা এলাও করবে না সরকার । অনেক আন্দোলন, তদবির, বিভিন্ন এঙ্গেল থেকে প্রেসার কোন কিছুইকে তোয়াক্কা না করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিটি বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি পরীক্ষার সুযোগ দিয়ে সব কিছু চূড়ান্ত করে ফেলে সরকার।
এর মধ্যে দুবার মডেল টেস্টও নিয়ে নেয়। বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য রেজিষ্ট্রেশনও চূড়ান্ত হয়।
একেবারে নির্ধারিত তারিখের এক সপ্তাহ আগে এই পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করে।
স্বাভাবিক ভাবে ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বার্ষিক পরীক্ষা দিয়ে হাই স্কুলে উত্তীর্ণ হয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ওঠে। চলে যায় ভিন্ন ভিন্ন স্কুলে। কেউ কেউ দূর দূরান্তে।
শুরু করে হাইস্কুলের পড়া। এদের মধ্যে কেউ কেউ ক্যাডেট কলেজে ভর্তির জন্য নিজেকে প্রস্তুত করার জন্যও ছক আঁকছে।
এদিকে চলে গেছে তিন তিনটি মাস! অনেকে সেই পুরোনো বই সরিয়ে ফেলেছে তাক কিংবা পড়ার টেবিল থেকে। এই তিন মাসে ওদের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে ৬ষ্ঠ শ্রেণির বই, ক্লাস ও সিলেবাস, নতুন স্কুল, স্কুলের আঙিনা এবং আলাদা এক পরিবেশ। ওরা ছিল প্রাইমারির শিক্ষার্থী। এখন তারা হাইস্কুলে। ওদের ভেতরও একটা পরিবর্তন এসেছে। একটু বড় বড়, সিনিয়র সিনিয়র ভাব!
তিন তিনটি মাস চলে যাওয়ার পর শিক্ষা বিভাগের মনে হলো এদের আবার বৃত্তি পরীক্ষা নিবে। তিন মাসে এক একজন শিক্ষার্থীর অনেক কিছুই পরিবর্তন হয়ে যায়। কোন কোন শিক্ষার্থী হয়ত স্কুলের পরিবর্তনের সাথে স্থানও মানে জেলাও পরিবর্তন করে ফেলেছে।
শিক্ষা বিভাগ স্থগিত হওয়া প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নিবে। আবার শিক্ষার্থীরাও পরীক্ষা দিবে কারণ বৃত্তি পরীক্ষা মানে একজন শিক্ষার্থীর জীবনের অনেক স্বপ্ন বা মর্যাদার সোপান।
এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এই প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নিয়ে, যা শিক্ষার্থী কিংবা অভিভাবক ফেলতেও পারছেনা আবার গ্রহন করতেও পারছেনা।
সব কিছুর পর যা বলে ফেলি এটা বাংলাদেশ।
এই দেশ সব অসম্ভবের দেশ।
Leave a Reply