
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে স্বর্ণের দুল ছিনিয়ে নিতে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া এক শিশুকে হত্যার চেষ্টা করেছেন এক নারী। তবে গুরুতর আহত হলেও অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে গেছে ওই শিশু। ঘটনাটির পরদিনই পুলিশ মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তারকৃতের নাম আরজু আক্তার (৩০)। তিনি কমলনগর উপজেলার চরফলকন ইউনিয়নের হাওলাদার বাড়ির অজি উল্যাহর মেয়ে। ভুক্তভোগী শিশু তাহমিনা আক্তার সাদিয়া (৯) মধ্য চরফলকন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী।
পুলিশ জানায়, সাদিয়া কানে এক আনা ওজনের স্বর্ণের দুল ব্যবহার করত। ওই দুলের লোভে পড়ে শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে প্রতিবেশী আরজু তাকে ফুসলিয়ে ঘর থেকে বের করে। প্রথমে রিকশায় ঘুরিয়ে নানা জায়গায় নিয়ে যাওয়ার পর করুণানগর বাজারের পাশে জোরপূর্বক দুল খুলে নেয় সে। শিশুটি কান্না শুরু করলে আরজু তাকে চড়-থাপ্পড় মেরে চর লরেঞ্চ বাজারে নিয়ে গিয়ে এক জুয়েলারি দোকানে দুল বিক্রি করে ৭ হাজার ৫৫০ টাকা পায়।
এরপরও কান্নাকাটি থামাতে না পেরে আরজু শিশুটিকে একটি পরিত্যক্ত বাগানে নিয়ে যায়। সেখানে তার হাত-পা বেঁধে মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে ফেলে রেখে যায়। রক্তক্ষরণে অজ্ঞান হয়ে পড়ায় তাকে মৃত ভেবে ঘরে ফিরে যায় সে।
কিছুক্ষণ পর জ্ঞান ফিরে শিশুটি আশপাশের এক বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।
খবর পেয়ে রোববার ভোরে পুলিশ রামগতি উপজেলার বালুরচর এলাকা থেকে আরজু আক্তারকে গ্রেপ্তার করে।
কমলনগর থানার ওসি মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম জানান, স্বর্ণের লোভে শিশু সাদিয়াকে হত্যা চেষ্টা করেছে আরজু। এত আঘাতের পরও শিশুটি বেঁচে যাওয়া অলৌকিক ঘটনা। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা তা তদন্ত করা হচ্ছে।
Leave a Reply