
সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক বিউটি রানী পাল—যিনি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আলোর পথ দেখান, সেই মানুষটিই যখন স্কুলের মাঠে একটি সাধারণ গানের তালে নেচে রিলস আপলোড করলেন, তখন তা যেন একশ্রেণির মানুষের ভ্রু কুঁচকে দেওয়ার মতো ঘটনা হয়ে দাঁড়াল।
শুরু হলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক অনাবশ্যক সমালোচনার ঝড়। অথচ সেই ভিডিওটিতে ছিল না কোনো অশ্লীলতা, ছিল না কোনো শালীনতার লঙ্ঘন। একটি নিছক আনন্দময় মুহূর্তকে ঘিরে এই নেতিবাচক সমালোচনা বড় বেশি বেমানান।
ভুলে গেলে চলবে না, শিক্ষক হলেও তাঁরা রক্ত-মাংসের মানুষ; আনন্দ করা, নিজস্ব আবেগ ও অভিব্যক্তি প্রকাশ করার সমান অধিকার তাঁদেরও রয়েছে এবং করা উচিতও।
আজ উন্নত বিশ্বে সৃজনশীলতা, আনন্দ আর মুক্তচিন্তার আলোয় শিক্ষাদানের পদ্ধতি সমাদৃত ও প্রশংসিত। অথচ আমাদের সমাজে আজও শিক্ষকদের এক অদ্ভুত ও কঠোর গম্ভীরতার গণ্ডিতে আটকে রাখার পুরোনো মানসিকতা রয়ে গেছে।
জীবনের কদমফুল ফুটিয়ে তোলার কারিগরদের সামান্য আনন্দ বা বিনোদনকে অপরাধের দৃষ্টিতে দেখা বন্ধ হোক। কুসংস্কার ও নেতিবাচকতার দেয়াল ভেঙে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর সময় আজ এসে গেছে।
জেনে রাখা ভালো প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয় আর প্রতিটি ক্লাস্টারের প্রশিক্ষণে গান অভিনয় নৃত্য প্রদর্শন করানো হয়।সেগুলো দোষের কিছু না। উন্নত বিশ্বের দিকে তাকিয়ে দেখুন তারা কিভাবে শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের মাধ্যমে এগিয়ে গেছে।


Leave a Reply