
ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় মাদকবিরোধী সভা শেষে ফেরার পথে শ্রমিক দল নেতাকর্মীদের ওপর হামলা এবং পরে এক নেতার বাসায় হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে গুলি চালানোর অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য ভিন্ন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাতে আশুলিয়ার কাঠালতলা, চিত্রশাইলের মানিকগঞ্জ পাড়া ও কামরুলের মোড় এলাকায় এসব ঘটনার কথা জানিয়েছে একাধিক সংবাদমাধ্যম। ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
আশুলিয়া থানা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলামের অভিযোগ, মাদকবিরোধী একটি সভা শেষে বাড়ি ফেরার সময় তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। পরে তার বাসায়ও হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। তার দাবি, হামলার সময় গুলি ছোড়া হয়েছে। ঘটনায় ১৫ থেকে ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।
রবিউল ইসলাম বলেন, এর আগেও মাদকবিরোধী অবস্থানকে কেন্দ্র করে তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছিল। তবে তখন গুলি চালানো হয়নি। এবারের ঘটনায় তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন বলেও জানান। ইন্টারনেট ব্যবসা নিয়ে বিরোধের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তার ইন্টারনেট ব্যবসা থাকলেও এ ব্যবসা নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে কোনো বিরোধ নেই।
অন্যদিকে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলামের ভাষ্য, রাত ১০টার পর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রাথমিকভাবে ইন্টারনেট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে রবিউল ইসলাম ও হাবিবের মধ্যে বিরোধের বিষয়টি জানা গেছে। তবে গুলি চালানোর কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেছেন তিনি। একই সঙ্গে রবিউল ইসলামের অভিযোগের বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানান ওসি।
এ ঘটনায় কয়েকজন আহত হওয়ার কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। তবে আহতের সংখ্যা নিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে ভিন্নতা রয়েছে—কোথাও ছয়জন, কোথাও পাঁচজন আহত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। আহতদের মধ্যে ইয়ারপুর ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সহসভাপতি সাঈদ হাসান মিঠুর নামও এসেছে।
অভিযোগের ঘটনায় হাবিবকে অভিযুক্ত করা হলেও তার বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে পরস্পরভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। একটি প্রতিবেদনে তার বক্তব্য নেওয়া হয়েছে, যেখানে তিনি হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন; অন্য প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার পর তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাই বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
পুলিশ জানিয়েছে, রবিউল ইসলামের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে হামলার প্রকৃত কারণ, জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং গুলি চালানোর অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যাবে।
Leave a Reply