
সাভারের আশুলিয়ার খেজুরবাগান এলাকায় গার্মেন্টস কর্মজীবী নারী হোস্টেলের জন্য বরাদ্দ সরকারি জমি দখল করে দোকানপাট ও পরিবহন পার্কিং গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ওই জমিতে ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মোটরচালক দল’-এর একটি সাইনবোর্ডও টাঙানো হয়েছে।
অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা সেলিম মোল্লা নিজেকে জাতীয়তাবাদী মোটরচালক দলের আশুলিয়া ইউনিয়ন শাখার আহ্বায়ক হিসেবে পরিচয় দেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সংগঠনটির স্থানীয় নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এ ধরনের কমিটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে এবং আশুলিয়া ইউনিয়ন কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।
সরকারি রেজিস্ট্রি ও খতিয়ান-সংক্রান্ত তথ্যের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বড় আশুলিয়া মৌজার ৭০৮১, ৭৩০৭ ও ৭৩০৮ দাগের জমি মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নামে নিবন্ধিত। সংশ্লিষ্ট খতিয়ানে মোট ৯৭ শতাংশ জমির উল্লেখ রয়েছে। হোস্টেল সম্প্রসারণের জন্য ২০১২ সালে এর ৫৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল বলে হোস্টেল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য।
হোস্টেল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ওই জমিতে দোকানপাট ও পরিবহন পার্কিং গড়ে তোলা হয়। দোকান থেকে মাসিক ভাড়া এবং পার্কিং করা পরিবহন থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। প্রকাশিত দুটি প্রতিবেদনে দোকানের মাসিক আদায়ের অঙ্কে পার্থক্য পাওয়া গেছে—একটিতে ৩ হাজার টাকা এবং অন্যটিতে ৩ হাজার ৫০০ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। জমিতে টাঙানো একটি সাইনবোর্ডে মামলা চলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেলিম মোল্লার দাবি, সড়কের পাশের প্রায় ৫০ শতাংশ জমি তাদের পৈতৃক সম্পত্তি। আদালতের বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁর আইনজীবীরা আদালতের মাধ্যমে সাইনবোর্ড লাগিয়েছেন। তবে জমির মালিকানা ও দখলসংক্রান্ত বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
স্থানীয় মোটরচালক দল-সংশ্লিষ্ট নেতা নূর হোসেন ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, সংগঠনের নাম ব্যবহার করে মনগড়া কমিটি গঠন করা হয়েছিল। পরে ওই ইউনিয়ন কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। সংগঠনের আরেক নেতা সেলিম রেজা বাবুর বক্তব্য অনুযায়ী, দখলদারিত্ব ও অনিয়মের অভিযোগের পর ২৪ সেপ্টেম্বর আশুলিয়া ইউনিয়ন শাখার কমিটি বিলুপ্ত করা হয়।
এদিকে হোস্টেল-সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, দখল করা জায়গায় সন্ধ্যার পর হকারদের জটলা এবং উচ্চ শব্দে সাউন্ড সিস্টেমে গান বাজানোর কারণে আবাসিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। এতে কর্মজীবী নারী ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও স্বাভাবিক জীবনযাপনে সমস্যা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত ২২ আগস্ট চাঁদাবাজি ও ভূমিদখলের অভিযোগে সেলিম মোল্লাকে আশুলিয়া থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল। পরে তিনি জামিনে মুক্ত হন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে তখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা জানানো হয়নি; বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পুলিশ পাঠানোর কথা জানিয়েছিলেন আশুলিয়া থানার ওসি তরিকুল ইসলাম।
Leave a Reply