
আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও শুল্ক যৌক্তিকীকরণের দাবি; ১৫ দিনের মধ্যে পদক্ষেপ না নিলে রিটের ঘোষণা!
দেশে গরুর মাংসের দাম প্রতি কেজি ২৫০ টাকায় নামিয়ে আনার লক্ষ্যে জীবিত গরু ও প্যাকেটজাত হালাল মাংসের বাণিজ্যিক আমদানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আমদানি শুল্ক যৌক্তিকীকরণের দাবি জানিয়ে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জনস্বার্থে এ নোটিশ পাঠান। নোটিশের প্রাপক হিসেবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানকে রাখা হয়েছে।
🔹উচ্চমূল্যে চাপে সাধারণ ভোক্তা
আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন বাজারে গরুর মাংসের দাম প্রতি কেজি ৭৮০ থেকে ৮৫০ টাকার মধ্যে রয়েছে। এ দামে নিম্নআয়ের মানুষ ও নির্দিষ্ট বেতনের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোর জন্য গরুর মাংস কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে নোটিশে দাবি করা হয়েছে।
নোটিশদাতার মতে, যেসব দেশে তুলনামূলক কম খরচে গবাদিপশু পালন ও মাংস উৎপাদন করা সম্ভব, সেসব দেশ থেকে বাণিজ্যিক আমদানির সুযোগ তৈরি করা হলে দেশের বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে। এতে ভোক্তারা তুলনামূলক কম দামে মাংস কেনার সুযোগ পেতে পারেন।
🔹১৫ দিনের মধ্যে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি
নোটিশে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে জীবিত গরু আমদানির ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সনদপ্রাপ্ত হালাল ফ্রোজেন ও চিল্ড মাংসের বাণিজ্যিক আমদানির সুযোগ সৃষ্টি এবং আমদানি শুল্ক যৌক্তিকীকরণের দাবি জানানো হয়েছে।
এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে গরুর মাংসের খুচরা মূল্য প্রতি কেজি ২৫০ টাকার মধ্যে নামিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন নোটিশদাতা।
🔹পদক্ষেপ না নিলে হাইকোর্টে রিটের ঘোষণা
নোটিশে বলা হয়েছে, নির্ধারিত ১৫ দিনের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে।
তবে আইনি নোটিশ পাঠানো মানেই গরুর মাংসের দাম ২৫০ টাকায় নেমে আসা নিশ্চিত নয়। আমদানি নীতি, শুল্ক, পরিবহন ব্যয়, সরবরাহব্যবস্থা ও বাজার পরিস্থিতির ওপর প্রস্তাবটির বাস্তব প্রভাব নির্ভর করবে। এ বিষয়ে সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত বা বাস্তবায়ন পদক্ষেপের তথ্য প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত উদ্ধৃত সংবাদসূত্রগুলোতে পাওয়া যায়নি।
Leave a Reply