



মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হওয়ায় জীবিকা সংকটে পড়া জেলেদের সহায়তায় ভোলার চরফ্যাশনে বিশেষ ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় চাল বিতরণ শুরু হয়েছে। উপজেলার ৩৫ হাজার ৬৫৬ জন প্রান্তিক জেলে ও মাঝি-মাল্লার জন্য ২৫ কেজি করে মোট ৮৯১ দশমিক ৪ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে চরফ্যাশন উপজেলার জিন্নাগড় ইউনিয়নে জেলেদের মাঝে চাল বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ। এ সময় জেলেদের পরিচয়পত্র ও কার্ড যাচাই করে তাঁদের হাতে ২৫ কেজি করে চাল তুলে দেওয়া হয়।
সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী, ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত ও বিক্রি বন্ধ থাকবে। এ সময়ে মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করা এবং ইলিশের উৎপাদন বাড়ানোই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
চাল বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন প্রশাসক জয়ন্ত কুমার অপু, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হুদা এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ওয়ালিউল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
চাল পেয়ে জেলে হারুন মোল্লা বলেন, “দীর্ঘদিন নদীতে ইলিশের তেমন দেখা পাইনি। এখন ইলিশ আহরণের সম্ভাবনাময় সময় এলেও মা ইলিশ রক্ষায় আমরা সরকারি নির্দেশনা মেনে মাছ ধরা থেকে বিরত রয়েছি। নিষেধাজ্ঞার এই ২২ দিন জাল ও নৌকা মেরামতের কাজে লাগাব। সরকারের খাদ্যসহায়তা আমাদের এই সংকটের সময়ে কিছুটা স্বস্তি দেবে। সবাই নিয়ম মেনে চললে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বাড়বে এবং জেলেরাও উপকৃত হবেন।”
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন প্রশাসক জয়ন্ত কুমার অপু বলেন, “মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান সফল করতে জেলেদের মাঝে বিশেষ মৎস্য ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় চাল বিতরণ শুরু হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেরা যাতে খাদ্যসংকটে না পড়েন, সে লক্ষ্যেই এ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। মা ইলিশ রক্ষায় সরকারি নির্দেশনা মেনে চলতে জেলেদের সচেতন করা হচ্ছে। ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন হলে ভবিষ্যতে মাছের উৎপাদন ও জেলেদের আয় বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ বলেন, “মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের খাদ্যসহায়তা দেওয়া হচ্ছে। চরফ্যাশনের তালিকাভুক্ত জেলেদের জন্য বরাদ্দ করা ভিজিএফের চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেরা যেন সরকারি নির্দেশনা মেনে চলেন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাচ্ছি।”
সংশ্লিষ্টদের আশা, সরকারি নিষেধাজ্ঞা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন এবং জেলেদের সচেতন অংশগ্রহণের মাধ্যমে মা ইলিশের প্রজনন সুরক্ষিত হবে। এতে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি ও দেশের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
Leave a Reply