
ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুরের যাদুরচর এলাকায় এক মাদরাসাছাত্রীর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার পরিবারের সদস্য ও মাদরাসার শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে আয়েশা সিদ্দিকা রাযি বালিকা মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে। এতে শিক্ষার্থীসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন বলে একটি স্থানীয় সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, জাতীয় দৈনিকের অনলাইন প্রতিবেদনে সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হওয়ার তথ্য এসেছে।
নিখোঁজ ছাত্রীর সন্ধানে পরিবারের সদস্যরা মাদরাসায় গেলে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে প্রকাশিত সংবাদে জানা গেছে।
▪️১১ অক্টোবর থেকে নিখোঁজ পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী
নিখোঁজ শিক্ষার্থীর নাম মোছা. মারিয়া আক্তার লিমা (১২)। সে মাদরাসাটির আবাসিক বিভাগের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, গত ১১ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ছুটি শেষে অন্য ছাত্রীদের সঙ্গে বের হওয়ার পর থেকে তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে সাভার মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান না পাওয়ায় বৃহস্পতিবার পরিবারের সদস্যরা মাদরাসায় যান।
▪️মাদরাসায় প্রবেশ নিয়ে উত্তেজনা, সংঘর্ষ
সংবাদ প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, নিখোঁজ ছাত্রীর বাবা নুরুল ইসলাম স্বজনদের নিয়ে মাদরাসার ছাত্রী হোস্টেলে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় মাদরাসার নিরাপত্তাকর্মীরা বাধা দিলে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে মাদরাসার শিক্ষার্থীরা বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
ঘটনায় কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হওয়ার পাশাপাশি বেসরকারি টেলিভিশনের একজন ক্যামেরাপারসনও আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সংঘর্ষের সময় ক্যামেরা মাটিতে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং একটি মোটরসাইকেলের হেলমেট ভাঙার কথাও সংবাদে এসেছে।
▪️পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে
মাদরাসার শিক্ষক মুফতি আব্দুল্লাহ ফিরোজির বক্তব্য অনুযায়ী, নিখোঁজ ছাত্রীর বাবা ও স্বজনেরা লোকজন নিয়ে মাদরাসার ফটক ভেঙে প্রবেশের চেষ্টা করলে সংঘর্ষ বাধে। তিনি ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।
অন্যদিকে, সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সবুজকে উদ্ধৃত করে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছাত্রী নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। থানার আরেক কর্মকর্তা জানান, জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।
পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় বলে সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিখোঁজ ছাত্রীর সন্ধান পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
একটি শিশুর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পরিবারের উদ্বেগ যেমন স্বাভাবিক, তেমনি এ ধরনের পরিস্থিতিতে সংঘর্ষ এড়িয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে ঘটনার সমাধান করা জরুরি। একই সঙ্গে নিখোঁজ ছাত্রীর সন্ধান এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
Leave a Reply