
সরকারি চাকরিতে কর্মরত অবস্থায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চরফ্যাশন উপজেলা কমিটির সাংগঠনিক পদে থাকার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন চরফ্যাশন উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. সফিউল্লাহ জগলু। বরখাস্তের আদেশ জারির পর সংবাদ সম্মেলন করায় সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধি অনুসরণের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
১২ অক্টোবর প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. শাহজামান খানের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। আদেশের স্মারক নম্বর ৩৩.০১.০০০০.১০১.২৭.০১২(১)২৬.২০৯১।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বরখাস্তের আদেশ জারির পর সন্ধ্যায় চরফ্যাশন প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন সফিউল্লাহ জগলু। এ ঘটনায় সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধি এবং সংবাদ সম্মেলন করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমতির বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।
চরফ্যাশন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মোহাম্মদ রাজন আলী বলেন, “ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া তিনি সংবাদ সম্মেলন করতে পারেন না। শুনেছি, তিনি সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তবে এ বিষয়ে তিনি আমাকে কিছু জানাননি।”
অফিস আদেশ সূত্রে জানা গেছে, সফিউল্লাহ জগলু ভোলার লালমোহন উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। সংযুক্তিতে তিনি চরফ্যাশন উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
আদেশে উল্লেখ করা হয়, সফিউল্লাহ জগলু জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চরফ্যাশন উপজেলা কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রয়েছেন—এমন সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর ২৫(১) বিধিতে সরকারি কর্মচারীদের রাজনৈতিক দলের সদস্য হওয়া এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের বিষয়ে বিধিনিষেধ রয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর বিরুদ্ধে প্রযোজ্য বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বরখাস্তের আদেশের পর সংবাদ সম্মেলন করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে সফিউল্লাহ জগলুর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা-ও প্রকাশ করা যেতে পারে।
Leave a Reply