
ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার (এস কে সিনহা) বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৮ সেপ্টেম্বর নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মরণে ১৮ জুলাই গ্রাহকদের বিনামূল্যে ১ জিবি ইন্টারনেট দেবে বিটিআরসি
বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) ছিল মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্ধারিত দিন। তবে দুদক তা দাখিল করতে না পারায় ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. জাকির হোসেন গালিব প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন এ তারিখ নির্ধারণ করেন।
২০২১ সালের ৭ অক্টোবর দুদকের উপপরিচালক মো. গুলশান আনোয়ার প্রধান বাদী হয়ে ঢাকার সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় এস কে সিনহার বিরুদ্ধে নিজের ভাই ও আত্মীয়ের নামে ৭ কোটি ১৪ লাখ টাকার সম্পদ অর্জন করে তা স্থানান্তর ও হস্তান্তরের অভিযোগ আনা হয়।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, এস কে সিনহা রাজউক থেকে উত্তরা আবাসিক এলাকায় নিজের নামে একটি প্লট বরাদ্দ নেন। পরবর্তীতে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে এবং প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে পূর্বাচল প্রকল্পে নিজের ভাই নরেন্দ্র কুমার সিনহার নামে তিন কাঠার একটি প্লট বরাদ্দ করান। পরে প্রভাব খাটিয়ে ওই প্লটকে পাঁচ কাঠায় উন্নীত করে উত্তরার ৪ নম্বর সেক্টরের ৬ নম্বর সড়কে স্থানান্তর করান এবং রাজউকের অনুমোদন নেন।
প্লট বরাদ্দ পাওয়ার পর সিনহা ‘পাওয়ার অব অ্যাটর্নি’ দিয়ে দেন তাঁর আত্মীয় শঙ্খজিৎ সিংহকে। অনুসন্ধানে দুদক জানতে পারে, উত্তরার ওই প্লটের মূল্য বাবদ রাজউককে ৭৫ লাখ টাকা সিনহা নিজেই পরিশোধ করেন এবং তার তত্ত্বাবধানে সেখানে নয়তলা একটি ভবন নির্মাণ করা হয়। দুদকের নিরপেক্ষ মূল্যায়নে ভবনটির নির্মাণ ব্যয় নির্ধারিত হয় ৬ কোটি ৩১ লাখ ৫ হাজার ৮৬৫ টাকা।
দুদক বলছে, ভবনের একটি ফ্ল্যাট বিক্রির অগ্রিম হিসেবে জনৈক খালেদা চৌধুরীর কাছ থেকে ৭০ লাখ টাকা গ্রহণ করা হলেও অবশিষ্ট ৬ কোটি ৩৬ লাখ ৫ হাজার ৮৬৫ টাকা সিনহার জ্ঞাত আয়ের বাইরে এবং তা অর্জনের বৈধ কোনো উৎস নেই। এ ছাড়া আত্মীয় শঙ্খজিৎ সিংহের নামে একটি ব্যাংক হিসাবে নগদ ও স্থায়ী মিলে ৭৮ লাখ টাকা পাওয়া গেছে।
এসব তথ্যের ভিত্তিতে দুদক অভিযোগ করে, এস কে সিনহা ক্ষমতার অপব্যবহার করে মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ২০০৪ সালের দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং ২০১২ সালের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে।
ইসির অষ্টম সভা অনুষ্ঠিত: চার সংশোধনী অধ্যাদেশসহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের এজেন্ডা
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২১ সালের ৯ নভেম্বর ৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের পৃথক এক মামলায় ঢাকার একটি আদালত এস কে সিনহাকে ১১ বছরের কারাদণ্ড দেন।
Leave a Reply