
ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল পাচারের অভিযোগের জবাব দিলেন ডিলার সেলিম।
ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের আকবরী বাজারে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল পাচারের অভিযোগ উঠেছিল ডিলার আব্দুল বারী সেলিমের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগের বিষয়ে লিখিত ও সশরীরে উপস্থিত হয়ে জবাব দিয়েছেন তিনি।
১৩ আগষ্ট (বৃহস্পতিবার) বিকেলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাধনা ত্রিপুরার কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে অভিযোগের ব্যাখ্যা দেন ডিলার সেলিম। তিনি দাবি করেন, সরকারি ৩০ কেজি ওজনের চটের বস্তা পরিবর্তনের পেছনে কোনো অনিয়ম বা অসাধু উদ্দেশ্য ছিল না। পরিবহনের সময় কয়েকটি চটের বস্তা ছিঁড়ে যাওয়ায় চাল নষ্ট ও অপচয় রোধে সাময়িকভাবে প্লাস্টিকের বস্তায় রাখা হয়েছিল। এতে চালের মান ও ওজন অক্ষুণ্ন ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
ডিলার আরও জানান, পাঁচজন ভোক্তা সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তাদের বরাদ্দের চাল ক্রয় করে মাস্টাররোলে স্বাক্ষর/টিপসই দেওয়ার পর চাল বুঝে নেন। কিন্তু সেদিন অতিবৃষ্টির কারণে কাঁচা রাস্তা খারাপ হয়ে যাওয়ায় এবং কোনো পরিবহন না পাওয়ায় তারা চালগুলো কিছু সময়ের জন্য ডিলারের গোডাউনে রেখে যান। ডিলারের ভাষ্য অনুযায়ী, চালগুলো বিক্রির জন্য মজুত রাখা হয়নি; ভোক্তাদের অনুরোধেই সাময়িকভাবে গোডাউনে রাখা হয়েছিল।
অভিযোগের শুনানিতে ওই পাঁচজন ভোক্তাও উপস্থিত হয়ে চাল ডিলার পয়েন্টে রেখে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেন। তারা জানান, অতিবৃষ্টির কারণে রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় এবং পরিবহন না পাওয়ায় নিজেদের দা
য়িত্বে চালগুলো সেখানে রেখে গিয়েছিলেন।
শুনানি শেষে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও সাক্ষ্য-প্রমাণ বিবেচনা করে এবং ঘটনাটি প্রথমবারের মতো ঘটায় মানবিক দৃষ্টিতে ডিলার আব্দুল বারী সেলিমকে ক্ষমা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাধনা ত্রিপুরা। তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা পুনরায় ঘটলে ডিলারশিপ বাতিল করা হবে বলে তাকে কঠোরভাবে সতর্ক করেন তিনি।
ডিলার আব্দুল বারী সেলিম বলেন, তিনি সরকারি নীতিমালা ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। পরিদর্শনের সময় যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, তা অনাকাঙ্ক্ষিত ও সাময়িক ছিল। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না বলেও তিনি অঙ্গীকার করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শাহিনা বেগম ও খাদ্য পরিদর্শক আব্দুল আজিজ।
Leave a Reply