
ভারতের উত্তর প্রদেশের মীরাটে প্রকাশ্যে এসেছে এমন এক হত্যাকাণ্ড, যা শুনলে সিনেমার গল্প বলেই মনে হবে। কিন্তু পুলিশের দাবি, এটি ছিল অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় সাজানো বাস্তব পরিকল্পনা।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ৩৫ বছর বয়সী অতুল প্যানওয়ারকে হত্যার জন্য প্রথমে তার দুধে অতিরিক্ত মাত্রায় ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেন স্ত্রী দামিনী। তিনি অচেতন হয়ে পড়ার পর প্রেমিক তুষার ও তার দুই সহযোগী একটি বিষধর সাপ এনে বিছানার কম্বলের ভেতরে ছেড়ে দেয়। কিছুক্ষণ পর সাপের কামড়ে অতুলের মৃত্যু হয়। এরপর ঘটনাটি স্বাভাবিক সাপের কামড়ে মৃত্যু বলে প্রচার করা হয়।
তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ।
অভিযোগ অনুযায়ী, এই হত্যার পেছনে ছিল দুটি উদ্দেশ্য। একদিকে প্রায় ২০ লাখ রুপির জীবন বীমার অর্থ আত্মসাৎ করা, অন্যদিকে স্বামীকে সরিয়ে দিয়ে পরকীয়ার সম্পর্ককে স্থায়ী রূপ দেওয়া। সহযোগী দুই ব্যক্তিকে বীমার টাকা থেকে ৫ লাখ রুপি করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।
তদন্তকারীরা জানান, এটি ছিল প্রথম চেষ্টা নয়। প্রায় ২০ দিন আগে অতুলকে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যারও চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি হেলমেট পরা থাকায় প্রাণে বেঁচে যান। সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার পরই সাপকে ব্যবহার করে হত্যার নতুন ছক কষা হয়। 
ঘটনার শুরুতে এটিকে সাধারণ সাপের কামড়ে মৃত্যু মনে হলেও কয়েকটি অসঙ্গতি পুলিশের সন্দেহ জাগায়। এরপর মোবাইল কল রেকর্ড, প্রযুক্তিগত নজরদারি এবং জিজ্ঞাসাবাদে পুরো ষড়যন্ত্রের চিত্র সামনে আসে। এমনকি অভিযুক্ত তুষারের মোবাইল ফোনে বাক্সবন্দী সাপের ছবিও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় স্ত্রী দামিনী, তার প্রেমিক তুষার এবং সহযোগী সোনু ও উদয়কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত এখনও চলছে এবং আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।
এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, কখনও কখনও সবচেয়ে ভয়ংকর অপরাধগুলো অস্ত্র দিয়ে নয়, বিশ্বাসকে ব্যবহার করেই সংঘটিত হয়।
Leave a Reply