1. ssnurnahar19@gmail.com : Mohammad RAHMAN : Mohammad RAHMAN
  2. muktanganpratidin@gmail.com : admin :
বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪০ পূর্বাহ্ন

ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয় নিয়ে চারদিকে ছড়িয়েছে বিভ্রান্তি

নীহার বকুল:স্টাফ রিপোর্টার -মুক্তাঙ্গঁন প্রতিদিন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১১২ বার পঠিত

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে এইচএসসি এবং সদস্য (মেম্বার) পদে এসএসসি সনদের মূল কপি বাধ্যতামূলক এমন দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে বিদ্যমান আইন ও নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত বা বিধান এখনো কার্যকর হয়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি একটি দাবি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হচ্ছে, যেখানে বলা হয়েছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে এইচএসসি এবং মেম্বার পদে এসএসসি সনদের মূল কপি জমা না দিলে মনোনয়নপত্র বাতিল করা হবে। নির্বাচন কমিশন সচিবের বরাতে প্রচারিত এ দাবির সঙ্গে একটি জাতীয় দৈনিকের কথিত পেপার কাটিংও ছড়িয়ে পড়েছে, যা অনেকের কাছে বিষয়টিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছে।

‘Md Mohiuddin’ নামে একটি ফেসবুক পেজে গত ২৮ জুলাই এ-সংক্রান্ত একটি পোস্ট প্রকাশ করা হয়। ৩১ জুলাই দুপুর পর্যন্ত পোস্টটিতে হাজারো প্রতিক্রিয়া, শতাধিক মন্তব্য ও শেয়ার দেখা যায়। মন্তব্যে কেউ এ উদ্যোগকে সমর্থন করলেও অনেকে এর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

বিষয়টি যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট কী-ওয়ার্ড ব্যবহার করে অনুসন্ধানে মূলধারার কোনো গণমাধ্যমে এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটেও চেয়ারম্যান বা সদস্য পদে প্রার্থিতার জন্য এ ধরনের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণসংক্রান্ত কোনো প্রজ্ঞাপন বা নির্দেশনা নেই।

এ ছাড়া ২০০৯ সালের স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন পর্যালোচনায়ও এমন কোনো বিধান পাওয়া যায়নি। আইনের ২৬ ধারা অনুযায়ী, ইউপি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ নিতে কোনো ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক করা হয়নি। ফলে বর্তমান আইনে শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকলেও একজন ব্যক্তি আইনগতভাবে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে পারেন।

তবে গত ২২ জুলাই একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইউপি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীদের জন্য অন্তত স্নাতক ডিগ্রি বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না—তা জানতে চেয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। দুই আইনজীবীর করা রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত স্থানীয় সরকার সচিব, আইন সচিব ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে নির্দেশ দেন।

রিটকারীদের যুক্তি, গ্রাম আদালত আইনের অধীনে ইউপি চেয়ারম্যান বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগ ও প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তাই এ ধরনের দায়িত্ব পালনের জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা উচিত বলে তারা মনে করেন।

এদিকে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, ইউপি চেয়ারম্যান পদে শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণের বিষয়ে কমিশন এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। হাইকোর্টের রুল, বিদ্যমান আইন, পার্শ্ববর্তী দেশের বিধান এবং আদালতের পূর্ববর্তী রায় পর্যালোচনা করেই প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বর্তমানে কার্যকর আইন অনুযায়ী, ইউপি চেয়ারম্যান পদে এইচএসসি বা স্নাতক পাস বাধ্যতামূলক নয়। একইভাবে মেম্বার পদে এসএসসি সনদের মূল কপি জমা না দিলে মনোনয়ন বাতিল হবে এমন কোনো বিধানও নেই। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের নামে প্রচারিত দাবিটি সঠিক নয়।

Share this news as a Photo Card

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

Archives

All rights reserved © 2025
Design By Raytahost
HTML Snippets Powered By : XYZScripts.com

ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয় নিয়ে চারদিকে ছড়িয়েছে বিভ্রান্তি

08 September 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
মুক্তাঙ্গঁন প্রতিদিন