
বিএনপির বিরুদ্ধে আওয়ামীলীগের গোপন সমঝোতার তুলে জামায়াতে ইসলামী নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান আড়াল করার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।
তিনি বলেছেন, ‘বিএনপির বিরুদ্ধে কল্পকাহিনি প্রচার করে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতের তলে তলে খাতির আড়াল করা যাবে না। শুধু আওয়ামী লীগ নয়, তাদের প্রভু খ্যাত দেশের সঙ্গেও জামায়াতের পরকীয়া এখন ওপেন সিক্রেট।’
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার মুন্সিরহাট মাদ্রাসা মাঠে বাঘবেড় ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের সহিংস ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে গোপন সমঝোতা ছিল বলে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের দেওয়া বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন প্রিন্স।
তিনি বলেন, ‘বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের তলে তলে খাতির ছিল বলে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও রাজনৈতিক অসততার বহিঃপ্রকাশ। নিজেদের রাজনৈতিক ব্যর্থতা ও ঐতিহাসিক দায় আড়াল করতে বিএনপির বিরুদ্ধে মনগড়া অভিযোগ তুলে জনগণকে বিভ্রান্ত করা যাবে না।’
২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের ঘটনাকে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি কলঙ্কজনক অধ্যায় উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, প্রকাশ্য দিবালোকে সংঘটিত সহিংসতার দায় কোনো রাজনৈতিক সমঝোতার কল্পকাহিনি দিয়ে আড়াল করা সম্ভব নয়। ওই ঘটনাকে সামনে এনে বিএনপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অপবাদ দেওয়ার চেষ্টা দুঃখজনক এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির অপচেষ্টা।
প্রিন্স আরও বলেন, বিএনপিকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে একই কাতারে দাঁড় করানোর চেষ্টা মূলত আওয়ামী লীগের অতীত কর্মকাণ্ডের দায় আড়াল করার শামিল। আওয়ামী লীগের শাসনের বিরুদ্ধে বিএনপির দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলন ও সংগ্রামকে অস্বীকার করার অর্থ ইতিহাসের সত্যকে অস্বীকার করা।
জামায়াতের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বিএনপির বিরুদ্ধে কল্পিত আঁতাতের গল্প ছড়িয়ে নিজেদের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব ঢাকার চেষ্টা করবেন না। ইতিহাসকে বিকৃত করা যায়, কিন্তু ইতিহাসের সত্যকে মুছে ফেলা যায় না।’
এদিকে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশনা দেন সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। তিনি জানান, স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতামত, জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনায় প্রতিটি ইউনিয়নে একজন প্রার্থীকে বিএনপির পক্ষ থেকে সমর্থন দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, দল যাঁকে সমর্থন দেবে, সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে তাঁর পক্ষে কাজ করতে হবে। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের সহযোগীদের সম্ভাব্য অপতৎপরতার বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র বরদাস্ত করা হবে না।
বাঘবেড় ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক চেয়ারম্যান ফরহাদ রাব্বানী সুমনের সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব সিরাজুল ইসলাম সরকারের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন ধোবাউড়া উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আনিসুর রহমান মানিক, যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল কুদ্দুস ও মাহবুবুল আলম বাবুল, জেলা যুবদলের সহসভাপতি আবুল কাশেম ডলার, জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ফারুক হোসেন এবং উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম।
এ ছাড়া ইউনিয়ন বিএনপির নেতা মো. শাহজাহান, আবদুস শহীদ আকন্দ, মাহবুবুল আলম মাসুম, আমিনুল ইসলাম, ইদ্রিস আলী ও আলাল উদ্দিনসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
Leave a Reply