
সড়ক পারাপারে পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্মিত ফুটওভার ব্রিজগুলোতে হকারদের দোকান বসানো নিয়ে সাভারের বিভিন্ন ব্যস্ত এলাকায় ভোগান্তির অভিযোগ উঠেছে। ব্রিজের ওপর পণ্যসামগ্রী সাজিয়ে বিক্রি করায় চলাচলের জায়গা সংকুচিত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ, নারী, শিশু ও বয়স্ক পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচলে অসুবিধা হচ্ছে।
সাভার বাসস্ট্যান্ড, সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড, গেন্ডা, রেডিও কলোনি ও হেমায়েতপুরসহ বিভিন্ন এলাকার ফুটওভার ব্রিজে হকারদের দোকান বসানো নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। এসব স্থানে কাপড়, জুতা, খেলনা, খাবারসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করা হয় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ফুটওভার ব্রিজের দুই পাশে দোকান ও পণ্যসামগ্রী থাকায় কোনো কোনো স্থানে চলাচলের পথ সরু হয়ে যায়। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে ব্রিজ পার হতে গিয়ে পথচারীদের ধীরগতিতে চলাচল করতে হয়। শিশুদের নিয়ে চলাচলকারী পরিবার এবং বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য পরিস্থিতি আরও অসুবিধাজনক হয়ে উঠতে পারে।
ফুটওভার ব্রিজের মূল উদ্দেশ্য হলো ব্যস্ত সড়কে যানবাহনের ঝুঁকি এড়িয়ে পথচারীদের নিরাপদে পারাপারের সুযোগ দেওয়া। কিন্তু সেখানে দোকান বসানোর কারণে চলাচলের জায়গা বাধাগ্রস্ত হলে ব্রিজ ব্যবহারের সুবিধা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এর আগে সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ফুটপাত ও সড়কের পাশের দখল সরাতে প্রশাসনের অভিযান পরিচালনার খবরও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। দ্য ডেইলি স্টার-এর ১২ মার্চ ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঈদযাত্রায় মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে ওই এলাকায় হকার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছিল। তবে সেই অভিযানের তথ্য থেকে বর্তমানে সব ফুটওভার ব্রিজের পরিস্থিতি নিশ্চিত হওয়া যায় না।
হকারদের জীবিকা নির্বাহের বিষয়টিও এ সমস্যার সঙ্গে জড়িত। তাই জনসাধারণের চলাচলের পথ উন্মুক্ত রাখার পাশাপাশি প্রয়োজন বিবেচনায় বিকল্প স্থানে ব্যবসার সুযোগ তৈরির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা যেতে পারে।
স্থানীয়দের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সাভারের ব্যস্ত এলাকাগুলোর ফুটওভার ব্রিজ পরিদর্শন করে চলাচলের জায়গা নিশ্চিত করা হোক। পাশাপাশি ব্রিজের সিঁড়ি, প্রবেশপথ ও বের হওয়ার স্থান প্রতিবন্ধকতামুক্ত রাখতে নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন।
পথচারীদের নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে সাভার উপজেলা প্রশাসন, পৌর কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে হকারদের জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজে বের করাও প্রয়োজন।
Leave a Reply