২০২৭ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের শেখার অভিজ্ঞতা আরও আনন্দময় ও বাস্তবমুখী করার লক্ষ্যে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে নতুন চারটি পাঠ্যবই যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। বইগুলোতে খেলাধুলা, বাংলাদেশের সংস্কৃতি, আনন্দের মধ্য দিয়ে শেখা এবং কারিগরি দক্ষতা অর্জনের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
প্রস্তাবিত বইগুলোর চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসি) সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে বই চারটির প্রায় দেড় কোটি কপি ছাপানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সভার অনুমোদন ও মুদ্রণপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
এনসিটিবি-সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, চতুর্থ শ্রেণির জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘খেলাধুলা’ ও ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’। অন্যদিকে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য প্রস্তাবিত বই দুটি হলো ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ এবং ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’।
খেলাধুলা ও সংস্কৃতিতে গুরুত্ব:
চতুর্থ শ্রেণির ‘খেলাধুলা’ বইটি ১৪টি অধ্যায়ে সাজানো হয়েছে। এতে ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার ও অ্যাথলেটিকসের মতো খেলার পাশাপাশি কারাতে, জুডো ও তায়কোয়ান্দোর মতো আত্মরক্ষার কৌশল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা, পুষ্টি, হিট স্ট্রোক মোকাবিলা এবং সামাজিক দক্ষতা সম্পর্কেও শিক্ষার্থীদের ধারণা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া ১১টি অধ্যায়ে সাজানো ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ বইয়ে দেশের ভাষা, পোশাক, শিল্পকলা, সামাজিক রীতিনীতি এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্য তুলে ধরা হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দেশের ইতিহাস, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও ঐতিহ্য সম্পর্কে পরিচিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ষষ্ঠ শ্রেণিতে আনন্দময় শিক্ষা ও কারিগরি দক্ষতা:
ষষ্ঠ শ্রেণির ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বইটি ছয়টি অধ্যায়ে সাজানো হয়েছে। দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, পরিবেশ ও সামাজিক সম্পর্কের মধ্য দিয়ে শেখার বিষয়গুলো এতে গুরুত্ব পাবে।
অন্যদিকে আটটি অধ্যায়ের ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ বইয়ে প্রযুক্তির ব্যবহার, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, ছোট উদ্যোগ এবং বাস্তব সমস্যার সমাধানসংক্রান্ত বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শেখা ও ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
অনুমোদনের পর শুরু হবে মুদ্রণ:
প্রকাশিত সংবাদে এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলার বক্তব্যের বরাতে জানানো হয়েছে, নতুন চারটি বইয়ের পাণ্ডুলিপি প্রণয়ন ও যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির অনুমোদন পাওয়ার পর বইগুলো মুদ্রণের জন্য পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এনসিটিবি-সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় দেড় কোটি কপি বই ছাপানোর কাজ শেষ করা সম্ভব হবে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মুদ্রণ ও সরবরাহ সম্পন্ন হবে কি না, তা পরবর্তী অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে।
নতুন বইগুলো চালুর পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের শুধু মুখস্থনির্ভর পড়াশোনায় সীমাবদ্ধ না রেখে সৃজনশীলতা, শারীরিক ও মানসিক বিকাশ এবং বাস্তবজীবনভিত্তিক দক্ষতা অর্জনে উৎসাহিত করা।
Leave a Reply