
৭ বিঘা জমি বিক্রি করে কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন মিন্টু চন্দ্র বর্মন।আর সেই কলেজ মাঠেই অবশেষে অধ্যক্ষ মিন্টু চন্দ্র বর্মন এর খন্ডিত ৬ টুকরো দেহ উদ্ধার করা হয়েছে! এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত মোঃ রবিউল ইসলাম সহ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে প্রশাসন।
উল্লেখ্য, গত মাসে ১৪ তারিখ (১৪-০৭-২১) থেকে অধ্যক্ষ মিন্টু চন্দ্র বর্মন নিখোঁজ ছিলেন। সাভারের রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মিন্টু চন্দ্র বর্মণের (৩৬) লাশ উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে র্যাব। মিন্টু বর্মণকে হত্যার পর লাশ টুকরা টুকরা করে স্কুলের মাঠে পুঁতে ফেলা হয় বলে র্যাবের কাছে তথ্য রয়েছে। র্যাব বলছে, স্কুলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে তাঁকে খুন করা হয়। মিন্টুর এক সহকর্মীসহ র্যাবের হাতে আটক তিনজনও র্যাবের অভিযান দলের সঙ্গে রয়েছেন।
গত ০৮ আগস্ট ২০২১ তারিখ মধ্যরাত হতে অদ্য ০৯ আগস্ট ২০২১ তারিখ সকাল পর্যন্ত র্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা, র্যাব-৪ এবং র্যাব-১৩ এর অভিযানিক দল হত্যাকান্ডের পরিকল্পনা ও সংশ্লিষ্টতায় (১) মোঃ রবিউল ইসলাম (৩০), পিতা-জালাল উদ্দিন, গ্রাম+পোষ্ট-চন্ডিপুর,থানা-সুন্দরগঞ্জ, জেলা-গাইবান্ধা, (২) মোঃ আবু মোতালেব (৩০), পিতা-মোঃ মফিজুর রহমান, গ্রাম-গিতালগঞ্জ, পোষ্ট-ভজনপুর, থানা-তেতুলিয়া, জেলা-পঞ্চগড় ও (৩) মোঃ আঃ রহিম বাদশা (২২), পিতা-মোঃ আব্দুল ওহাব, গ্রাম+পোষ্ট-চন্ডিপুর, থানা-সুন্দরগঞ্জ, জেলা-গাইবান্ধা’কে যথাক্রমে ঢাকার আব্দুল্লাহপুর ও আশুলিয়া (সাভার) এবং গাইবান্ধা হতে গ্রেফতার করে।
র্যাব বলছে, মিন্টু বর্মণকে হত্যার পর লাশ ছয় টুকরা করে স্কুলের মাঠে পুঁতে ফেলা হয়। দেহ থেকে মিন্টুর মাথা বিচ্ছিন্ন করে উত্তরায় একটি ডোবায় ফেলা দেওয়া হয়। ২৮ দিন ধরে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখা থেকে আজ সোমবার সকালে এক খুদে বার্তায় অভিযান চালানোর তথ্য জানানো হয়। র্যাব জানিয়েছে, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাভারের রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এলাকায় মিন্টু বর্মণের লাশ উদ্ধারে অভিযান শুরু করেছে।
মিন্টু চন্দ্র বর্মণ সাত বছর ধরে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় বসবাস করতেন। তিনি সেখানকার আমিন মডেল টাউন স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষকতা করতেন। দুই বছর আগে (২০১৯ সাল) মিন্টু চন্দ্র বর্মণসহ চারজন মিলে জামগড়া এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে সাভার রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ নামে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়েন। অন্য তিন সহপ্রতিষ্ঠাতা হলেন রবিউল ইসলাম, মোতালেব ও শামসুজ্জামান। মিন্টু চন্দ্র বর্মণ ছিলেন এর অধ্যক্ষ। গত ১৩ জুলাই থেকে তাঁর সন্ধান মিলছিল না।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, যাঁদের আটক করা হয়েছে, তাঁদের ভাষ্যমতে, স্কুলের শ্রেণিকক্ষেই মিন্টু বর্মণকে কুপিয়ে খুন করা হয়। লাশ ছয় টুকরা করে স্কুলের মাঠেই পুঁতে ফেলা হয়। এরপর বিচ্ছিন্ন মাথা ফেলা হয় দক্ষিণখানের আশকোনা এলাকায়। আটক সবাই খুনের সঙ্গে জড়িত। পাঁচ টুকরা উদ্ধারের পরে উত্তরার আশকোনার ডোবায় খণ্ডিত মাথা উদ্ধারে অভিযান চালাবে র্যাব।
কতটা অমানবিক নির্যাতন করে হত্যা করা হয়ে একটু ভেবে শিউরে ওঠছে পরিবারের লোকজন সহ এলাকাবাসী, তারা এই ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারকৃতদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে দ্রুত শাস্তির দাবি জানান।
Leave a Reply