
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক নেতাকে বিএনপির কর্মী হিসেবে উল্লেখ করে প্রত্যয়নপত্র দেওয়ার ঘটনায় বরাইদ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেনের সাংগঠনিক পদ স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত এ স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে জেলা বিএনপি।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২২ সেপ্টেম্বর। সাটুরিয়া উপজেলার বরাইদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক মুহাম্মদ রুহুল আমিন ওরফে রুবেলকে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড, নাশকতার পরিকল্পনা ও অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির অভিযোগে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। এসব অভিযোগের সত্যতা অবশ্য আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
এরপর রুহুল আমিনকে জামিনে মুক্ত করতে স্থানীয় বিএনপি ও জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের পক্ষ থেকে পৃথক প্রত্যয়নপত্র দেওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। ২৪ সেপ্টেম্বরের একটি প্রত্যয়নপত্রে বরাইদ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ, ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন ও ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আব্দুল মান্নান স্বাক্ষর করেন। সেখানে রুহুল আমিন ও তাঁর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং দলীয় কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করে আসছেন বলে উল্লেখ করা হয়। প্রত্যয়নপত্রে আরও দাবি করা হয়, তিনি আওয়ামী লীগের সঙ্গে কখনো সম্পৃক্ত ছিলেন না।
অন্যদিকে, উপজেলা তাঁতী দলের সভাপতি বাবুল হোসেনের স্বাক্ষর করা পৃথক প্রত্যয়নপত্রেও রুহুল আমিনকে বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং ৫ আগস্টের আগে সরকারবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব প্রত্যয়নপত্র তাঁর জামিনের আবেদনের ক্ষেত্রে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছিল।
তবে প্রত্যয়নপত্রের বক্তব্যের সঙ্গে আওয়ামী লীগের দলীয় নথিতে থাকা তথ্যের অসঙ্গতি পাওয়া যায়। ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি ফজলুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আফাজ উদ্দিন স্বাক্ষরিত বরাইদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ঘোষিত কমিটিতে রুহুল আমিনকে আইনবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে রাখা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে ওই কমিটিতে তাঁর নাম এখনো থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনা তৈরি হয়। বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের একাংশের প্রশ্ন, আওয়ামী লীগের দলীয় নথিতে পদধারী একজন ব্যক্তিকে বিএনপির কর্মী হিসেবে প্রত্যয়ন দেওয়ার আগে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় যথাযথভাবে যাচাই করা হয়েছিল কি না। তবে প্রত্যয়ন দেওয়ার সঙ্গে জড়িত নেতাদের বক্তব্যেও বিষয়টি সম্পর্কে ভিন্ন ব্যাখ্যা পাওয়া গেছে।
বরাইদ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, রুহুল আমিনের আওয়ামী লীগে পদ-পদবি থাকার বিষয়টি তিনি জানতেন না এবং প্রত্যয়নপত্র দেওয়া ভুল হয়েছে। তিনি প্রত্যয়নপত্রটি প্রত্যাহারের কথাও জানান। অন্যদিকে যুবদল নেতা আব্দুল মান্নান দাবি করেছেন, সংশ্লিষ্ট নেতাদের স্বাক্ষর দেখে তিনি প্রত্যয়নপত্রে স্বাক্ষর করেছিলেন।
এদিকে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও মুখপাত্র অ্যাডভোকেট এ এফ এম নুরতাজ আলম বাহার জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের ওই নেতাকে কারাগার থেকে মুক্ত করতে দেওয়া প্রত্যয়নপত্র বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্ত ছিল না; এটি সংশ্লিষ্ট নেতাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত দুই নেতার সাংগঠনিক পদ স্থগিত থাকবে।
পাশাপাশি একই ঘটনায় বরাইদ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আব্দুল মান্নানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার তথ্যও এসেছে। অর্থাৎ বিষয়টি নিয়ে দলীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
Leave a Reply