দেশের বিভিন্ন এলাকায় মোবাইল টাওয়ার ও নেটওয়ার্ক স্থাপনা থেকে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি চুরির ঘটনা বাড়ছে। এর মধ্যে সাভারসহ ঢাকার আশপাশের কয়েকটি এলাকাকে টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোতে চুরি ও ভাঙচুরের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে উল্লেখ করেছে মোবাইল টেলিকম অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ (অ্যামটব)।
অ্যামটবের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত দেশের চার মোবাইল অপারেটরের নেটওয়ার্ক স্থাপনা থেকে মোট ৭ হাজার ৯৬৪ মিটার পাওয়ার ক্যাবল, ১৯৪টি রিমোট রেডিও ইউনিট (আরআরইউ), ১৭০টি বিটিএস কার্ড এবং ৭৫৬টি ব্যাটারি চুরি হয়েছে।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাওয়ার ক্যাবল চুরি হয়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন অপারেটর টেলিটকের। আট মাসে প্রতিষ্ঠানটির ৬ হাজার ৭৪৯ মিটার পাওয়ার ক্যাবল চুরি হয়েছে। একই সময়ে গ্রামীণফোনের ৫০৭ মিটার, রবির ৪১৭ মিটার এবং বাংলালিংকের ২৯১ মিটার পাওয়ার ক্যাবল চুরি হয়েছে।
ব্যাটারি চুরির ক্ষেত্রেও টেলিটক সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে টেলিটকের ৪৫২টি, রবির ২৫৩টি, গ্রামীণফোনের ২৭টি এবং বাংলালিংকের ২৪টি ব্যাটারি চুরি হয়েছে।
শুধু ক্যাবল ও ব্যাটারিই নয়, এখন টাওয়ারের সক্রিয় নেটওয়ার্ক সরঞ্জামও চোরদের লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে গ্রামীণফোনের ৭৫টি, রবির ৪৮টি এবং বাংলালিংকের ২৯টি বিটিএস কার্ড চুরির তথ্য পাওয়া গেছে। একই সময়ে চার অপারেটরের ১৯৪টি আরআরইউ চুরি হয়েছে।
অ্যামটব ১৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন—বিটিআরসির চেয়ারম্যানের কাছে দেওয়া এক চিঠিতে জানিয়েছে, ঢাকার বাড্ডা, মোহাম্মদপুর, লালবাগের পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, সাভার ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোতে চুরি ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটছে।
সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ মাসে চার অপারেটরের নেটওয়ার্ক স্থাপনা থেকে প্রায় ১৬ হাজার মিটার পাওয়ার ক্যাবল, ২ হাজারের বেশি ব্যাটারি এবং ৫০০টির বেশি আরআরইউ চুরি হয়েছে। কোথাও কোথাও বিটিএসের গুরুত্বপূর্ণ কার্ডও খুলে নেওয়া হয়েছে।
চুরি হওয়া এসব যন্ত্রাংশের প্রভাব সরাসরি মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবায় পড়তে পারে। বিশেষ করে ব্যাকআপ ব্যাটারি চুরি হলে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সময় টাওয়ার সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। আবার আরআরইউ বা বিটিএস কার্ডের মতো সক্রিয় যন্ত্রাংশ খুলে নেওয়া হলে কল, মোবাইল ইন্টারনেটসহ বিভিন্ন সেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
অ্যামটব জানিয়েছে, চুরি হওয়া বিশেষায়িত যন্ত্রাংশ স্থানীয় বাজারে সহজে পাওয়া যায় না। ফলে বিকল্প যন্ত্রাংশ সংগ্রহ, স্থাপন ও মেরামতে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় হয়। এতে নেটওয়ার্ক পুনরুদ্ধারে বিলম্বের পাশাপাশি অপারেটরদের আর্থিক ক্ষতি এবং গ্রাহকদের ভোগান্তি বাড়তে পারে।
চুরি ঠেকাতে অপারেটররা বিভিন্ন নিরাপত্তামূলক উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। তবে অ্যামটব বলছে, পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। সংগঠনটি টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোর নিরাপত্তায় বিটিআরসি, সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর সহযোগিতা চেয়েছে।
Leave a Reply