
এই মনে হয়, তাঁর ওপর থেকে চাপ কিছুটা বোধ হয় কমল, আবার কদিন পরেই দেখা যাচ্ছে, উল্টো সেই চাপ আরও বাড়ছে!
ডেনমার্ক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিইউ) তো এবার সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ইনফান্তিনোর ওপর আস্থা হারিয়েছে তারা। শুধু তা–ই নয়, আসছে নির্বাচনে ইনফান্তিনোর বিকল্প প্রার্থী খুঁজে বের করার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক স্বত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির একটি বিতর্কিত প্রস্তাব দিয়েছিলেন ইনফান্তিনো। পরে তীব্র সমালোচনার মুখে সেই প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। তবে ডিবিইউর মতে, এই উদ্যোগ ফিফা নেতৃত্বের প্রতি এক গভীর ‘আস্থা সংকট’ তৈরি করেছে। কোনো প্রস্তাব প্রত্যাহার বা আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমে এই ক্ষতের মেরামত সম্ভব নয়।
মরক্কোর রাবাতে আগামী বছরের ১৮ মার্চ ফিফার ৭৭তম কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হবে। সেখানেই নির্ধারিত হবে ফুটবলের শীর্ষ সংস্থার পরবর্তী নেতৃত্ব। ডিবিইউ জানিয়েছে, ২০২৩ সালের নির্বাচনেও তারা ইনফান্তিনোকে সমর্থন দেয়নি। এবারও তাঁকে কোনো সমর্থন দেবে না।
বোর্ড সভা শেষে এক বিবৃতিতে ডিবিইউ বলেছে, ‘বেশ কয়েকটি সদস্য সংস্থা এখন ইনফান্তিনোর ওপর থেকে সমর্থন তুলে নিচ্ছে, যা ইতিবাচক। ডিবিইউ উয়েফা এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে। উদ্দেশ্য একটাই, ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যেন সদস্য সংস্থাগুলোর সামনে একটি যোগ্য বিকল্প পথ খোলা থাকে। এমন একজন বিকল্প নেতৃত্ব প্রয়োজন, যিনি বিভিন্ন কনফেডারেশনের মধ্যে ঐক্য ফিরিয়ে আনবেন এবং ভাঙা বিশ্বাস আবার জোড়া লাগাবেন।’
চলতি মাসের শুরুর দিকে বাতিল হওয়া প্রস্তাবটি তোলার জন্য সদস্য সংস্থাগুলোর কাছে ক্ষমা চেয়েছিল ফিফা। এরপর মরক্কোয় জরুরি বৈঠক শেষে ইনফান্তিনোর প্রতি আবার সমর্থন জানান সংস্থাটির কয়েকজন শীর্ষ নেতৃত্ব। তবে এই পদক্ষেপ অসন্তোষ কমাতে পারেনি।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো অনেকদিন ধরেই আছেন সমালোচনার মধ্যেরয়টার্স
ডিবিইউ স্পষ্ট ভাষায় বলেছে, ‘জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ওপর থেকে আমাদের সমস্ত আস্থা উঠে গেছে। প্রস্তাব প্রত্যাহার কিংবা পরবর্তী ক্ষমা প্রার্থনা—কোনো কিছুই এই বাস্তবতাকে বদলাতে পারবে না। গত সপ্তাহের ঘটনাপ্রবাহ ফুটবলের নিয়ামক সংস্থায় নতুন একজন সভাপতি আসার প্রয়োজনীয়তাকেই আরও জোরালো করেছে।’
ডেনিশ সংস্থাটি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, টুর্নামেন্ট ও প্রশাসনিক কাঠামোতে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের আর কখনো সুযোগ দেওয়া হবে না—ফিফার কাছ থেকে এমন সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি না পেলে তারা ফিফার কোনো টুর্নামেন্টে অংশ নেবে না।
Leave a Reply